এতদিন উপদেষ্টাদের নিয়ে অসন্তোষ ছিলই। এবার প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ছাত্রনেতারা।বিষেশ করে হাসনাত ইউনূস সাহেবের লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টিকে লন্ডনে গিয়ে সরকার বেচার সঙ্গে তুলনা করেছেন। (বাইট হাসনাত)। এখন প্রশ্ন ইউনূস সাহেব কি ছাত্রনেতাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। জুলাই ঘোষনা পত্র নিয়ে নাহিদ বলেছেন যে তারা অনেক ছাড় দিয়েছে, কিন্তু জুলাই সনদে তারা কোন ছাড় দেবে না। এগুলি কি ইউনূস সাহেব এবং ছাত্রনেতাদের নতুন কৌশল। কারণ এই প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন যে এই ছাত্ররাই তার নিয়োগকর্তা, তাই তারা যখন চাইবে তিনি তখন চলে যাবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে, এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে এর জবাব আপনাদের হাতে। কখন আপনারা আমাদেরকে বিদায় দেবেন।”
“আমরা কেউ দেশ শাসনের মানুষ নই। আমাদের নিজ নিজ পেশায় আমরা আনন্দ পাই। দেশের সংকটকালে ছাত্রদের আহ্বানে আমরা এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালন করবো,” তিনি বলেন।
‘কখন নির্বাচন হবে’ এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এটা আমাদের সিদ্ধান্ত না। দেশবাসীকে ঠিক করতে হবে কখন আপনারা আমাদের ছেড়ে দিবেন। আমরা ছাত্রদের আহবানে এসেছি, তারা আমাদের প্রাথমিক নিয়োগ কর্তা।
“ দেশের আপামর জনসাধারণ আমাদের নিয়োগ সমর্থন করেছে। আমরা ক্রমাগতভাবে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে যাবো, যাতে হঠাৎ করে এ প্রশ্নটি উত্থাপিত না হয় আমরা কখন যাবো। তারা যখনই বলবে আমরা চলে যাব।”
এজন্য দরকারি সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকেও সংস্কার করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।
কিন্তু এখন অনেকেই মনে করছেন এনসিপি ভোটে মোটামুটি ফল তো দুরের কথা, কোন ভাবেই তারা জনগনের বিন্দুমাত্র সমর্থন পাবে না। তাই তিনি ছাত্রদের সঙ্গে দুরত্ব তৈরী করেছেন।এবং বিএনপিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যাতে আগামীদিনে তিনি বেঁচে যান।ফলে এনসিপি এবং জামাতকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। আবার কেউ মনে করছেন ছাত্রদের কাছে ইউনূসের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। তাই তারা আর ইউনূসকে ক্ষমতায় দেখতে চাইছেন না। কারণ একসময় এই ইউনূস সাহেব জুলাই অভ্যুত্থানকে বলেছেন মেটিক্যুলাস ডিজাইন। আবার ছাত্রদের দ্বারা সংগঠিত মব সন্ত্রাসকে বলেছেন প্রেসার গ্রুপ।অর্থাৎ তিনি সবসময় ছাত্রদের সমর্থন করে গেছেন,এবং তাদের প্রশংসা করে গেছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন গত ১২ই জুন পর্যন্ত ছাত্রেদের সঙ্গে ইউনূস সাহেবের সম্পর্ক ভালোই ছিল, কিন্তু ১৩ই জুন লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ছাত্রদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ইউনূস সাহেব নিজেকে ইতিহাসে অমর করে রাখতে, ৮ই আগস্ট নিজের ক্ষমতা গ্রহনের দিনটিকে, নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে ঘোষনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছাত্রনেতাদের আপত্তিতে সেই ঘোষনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু জুলাই ঘোষনা পত্রে বিএনপিকেই প্রাধান্য দেন ইউনূস সাহেব। ফলে ছাত্রদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা যায়। অথছ এই ছাত্রনেতাদের বাঁচাতে গোপালগঞ্জে সেনাবাহীনিকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে গুলি করার নির্দেশ দেয় এই ইউনূস সরকার। শুধু তাই নয় সেনাবাহীনির সাঁজোয়া গাড়ীতে করে তাদের উদ্ধারও করা হয়। কিন্তু এখন পুরো পরিস্থিতিই পাল্টে গেছে। ছাত্রনেতারা মনে করছেন নিজেকে বাঁচাতে ছাত্রদের ফাঁসিয়ে নিজের বাঁচার রাস্তা পরিস্কার করছেন নোবেল জয়ী ইউনূস সাহেব। নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে ছাত্ররা । আর এর জন্য ইউনূস বিরোধীতাই এক মাত্র পথ বলে মনে করছে তারা।












Discussion about this post