বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভেঙে ফেলা হল। ইতিহাস মুছতে গিয়ে, শেখ হাসিনার জমানার স্মৃতি মুছতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে সুবিধা করে দিল তান্ডবকারীরা। ২৪ ঘন্টা পর মোহাম্মদ ইউনুস যে সিদ্ধান্ত নিলেন তা আরো একবার ভুল, বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেটা কি রকম? চলুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 32 নম্বর বাড়িটিকে ভেঙে ফেলা হল। ঘটনার সময়সূচিতেই গলদ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ বুধবার রাতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। হাসিনা যে বক্তব্য রাখবেন, আগে থেকেই চাউর করেছিল আওয়ামী লীগের নেতারা। সোশ্যাল মাধ্যমে এই খবর সম্প্রচার করা হয়েছিল। হাসিনার বক্তব্য রাখার আগেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
গভীরভাবে দেখলে, এখানে একটি ভুল হয়েছে। অনেকে বলছেন, হাসিনার বক্তব্য যাতে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে না পারে, এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূল স্তরে নেতারা যাতে উদ্বুদ্ধ হতে না পারেন, সেই কারণেই এমন ঘটনা ঘটানো হল। যাতে মোড় ঘোরানো যায়। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে, এই ঘটনা নিছক হাসিনা ভয় থেকে। অর্থাৎ তারা হাসিনাকে ভয় পাচ্ছে, হাসিনা যদি আবারো দেশে ফিরে আসেন, তাদের অস্তিত্ব সংকটে চলে যাবে।
এ তো গেল তান্ডব কারীদের ভুল। সরকারের ভুল রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা চালানো হবে, তা আগে থেকেই সোশ্যাল মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিল ছাত্র নেতারা। তারপরও সরকার চুপ থাকল। ঘটনাস্থলের আশেপাশেও দেখা গেল না কোনও পুলিশকে। অর্থাৎ সরকারের তরফে এই ঘটনার দমন করার কোনও চেষ্টাই দেখা যায়নি। এখানেই আওয়ামীলীগ প্রচার করতে পারবে, দেশের বিশৃংখল পরিস্থিতি তৈরি হতে সাহায্য করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগের কাছে একটি প্রচারের হাতিয়ার চলে এল। সুবিধা হল হাসিনার দলেরই।
আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর, পরের দিন রাতে অন্তবর্তি সরকারের তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শক্ত হাতে আমাদের দমন করতে হবে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যারা তান্ডব চালালো, সেই ছাত্র নেতারা, অনেক আগেই পোস্ট করে দিয়েছিলেন। সেই পোস্ট দেখে কেন সরকার চুপ থাকল? এই সমস্ত ঘটনার পিছনে মদত রয়েছে ইউনুস সরকারের। মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post