৫ আগস্ট ২০২৫, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মানিক মিঞা অভিনুতে বড়সড়ো এক জলসার আয়োজন করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রক। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ছাড়াও আরো নানা ধরনের গান পরিবেশন করেন বিভিন্ন শিল্পীরা। এরমধ্যে কয়েকটি র্যাপ বা পশ্চিমা সংগীত পরিবেশিত হয়। যা নিয়ে এখন চলছে চর্চা। ওই ধরনের গানে এমন কিছু শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে, যে শব্দগুলিকে চলতি বাংলা ভাষায় গালিগালাজ বলেই ধারণা করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এই গান পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য গণ্যমান্য অতিথিদের সামনেই। এই অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বি-টিভিতে।
সুয়াল আর গানের কিছু অংশ ভয়েস সহ
কি নিজের কান কেই বিস্বাস করতে পারছেন না তো? ভালো করে দেখলেই বুঝবেন, এই গানের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রয়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলে। প্রশ্ন হল, ৱ্যাপ হল পশ্চিমা সংস্কৃতি, ইউরোপ বা আমেরিকায় জনপ্রিয়। তাহলে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে কেন? যেখানে জামায়াতে ইসলামী সহ অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের থেকে কেন আপত্তি এলো না? : মানিক মিঞা আভিনিঊতে মূল অনুষ্ঠানে অনেকেই গান গেয়েছেন, বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড তাদের সংগীত পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু তা বলে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে গাল বেঁধে সেই গান পরিবেশন করা হবে সেটা কিভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব? আসলে গল্পটা অন্য জায়গায়। মার্কিন ডিপ স্টেট এক বছরের আগে থেকেই বাংলাদেশে পালাবদলের জন্য অর্থ ব্যয় করতে শুরু করেছিল। সেখানে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ডকে অর্থ সাহায্য করার উদাহরণ আছে। যা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ফাঁস করেছিলেন। এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানেও সেই ধরনের বাংলা ব্যান্ড মঞ্চে নিজেদের গাল পরিবেশন করেছে। এতে আপত্তি থাকার কথা নয়। আপত্তি উঠছে তাদের শব্দ প্রয়োগের উচ্ছাশা নিয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে এটা কারা? কেউ কেউ বলছেন এরাই হলেন সেই ছিন্নমূল বখাটে, যারা জুলাই বিপ্লবের আগে গান বেঁধে সেই বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ সংস্কৃতি দূরে ঠেলে যারা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছেন, যারা পশ্চিমা ৱ্যাপ বা হিপ-হপ কেই নিজেদের ধ্যানজ্ঞান করে নিয়েছেন।
আমরা ধরে নিতেই পারি, ইউনূস বা এনসিপি সমর্থকরা এই ধরণের সংস্কৃতি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে? বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম কোন দিকে যাচ্ছে? আগামীদিনে এই সংস্কৃতি মেনে নেবে তো জামায়তে ইসলামী বা অন্যান্য কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি? প্রশ্ন রয়েই গেল, উত্তর কালের গর্ভে।












Discussion about this post