যাঁকে দেখা যাচ্ছে, সে অতি পরিচিত একটি মুখ। কী বলেছেন, সেটাও স্পষ্ট। কিন্তু কেন বলছেন একথা, সেটাই বিশ্লেষণ করা দরকার।
আসলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একটা গুমোট আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। কেন হয়েছে সেটাও সকলে জেনে গিয়েছে। এটা হওয়ারই কথা ছিল। কখন হয়, সেটা দেখার অপেক্ষায় ছিল গোটা দুনিয়া। আসলে আগুন নিয়ে কখনও খেলা করতে নেই। যে ইউনূসের পাণ্ডিত্য প্রশ্নাতীত, তিনি কী করে প্যারিস থেকে ঢাকা এসে তড়িঘড়ি দেশ শাসনের দায়িত্ব নিলেন সেই প্রশ্নটাই উঠতে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন,বলেছেন, দেশের প্রচলিত আইনের তাঁদের বিচার হবে।
রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সেনাবাহিনীর হেফাজতে রেখে বিচারকার্য সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রশ্ন করা হয় জাতীয় নির্বাচন নিয়েও। সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ এবং সুষ্ঠু। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও নিরাপদ। সেটা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে। জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, ‘২০১৪,’১৮ এবং ২০২৪-য়ের নির্বাচনে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাদের আসন্ন নির্বাচনে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে মাঠ পর্যায়ে সব প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা, যেমন জেলাশাসক, সহকারী জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে একটি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে বা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলিতে নজর ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের কাজে যাদের নিয়োগ করা হবে, তাদের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা।
ভোটের জন্য প্রশাসন কতটা সক্রিয় এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়েছে, সেটা জানাতে গিয়ে জাহাঙ্গির আলম একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রায় দেড় লক্ষ পুলিশ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের ২৮টি ব্যাচে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলবে ১৩০টি ভেন্যুতে। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচের ১৩ হাজার সদস্য প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যাবতীয় প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপির পাঁচ লক্ষ ৮৫ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে এক লক্ষ ৩৫ হাজার সদস্য সশস্ত্র। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যাবে। আনসার ব্যাটিলিয়নের তিন হাজার ১৫৭ জন সদস্য ভোটের সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। ভোটের সময় প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।’
উপদেষ্টাদের সেফ একজিট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কে কী চায়, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমার ছেলে-মেয়ে সবাই দেশে। আমি একা সেফ এক্সিট নিয়ে কী করব?












Discussion about this post