এক কথায় বেনজির সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশে একবার নয়, একাধিকবার সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু কস্মিনকালে উত্তরপাড়ার একাংশকে অস্থায়ী জেলখানায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ইউনূস সরকারের। সে দেশের সরকারি নির্দেশিকা উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঢাকার কেন্দ্রীয় সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকের এমইএস বিল্ডিং (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস) নম্বর ৫৪-কে সাময়িক কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে গত রবিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত এমএসই বিল্ডিং নম্বর ৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হল। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। ’’ যদিও ওই সামরিক কারাগারে কাদের রাখা হবে, সে ব্যাপারে নির্দেশিকায় সুস্পষ্ট কোনও উল্লেখ নেই। সেনা হেফাজতে থাকা ওই সব অফিসারদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত। একজন অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে গিয়েছেন।
বিগত আওয়মী লীগ সরকারের ১৫ বছরে শাসনামলে আমলে গুম, নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুইটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এবং গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট ২৫জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গত ৮ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই নির্দেশিকা জারির পরেই ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই ২৫ জনের মধ্যে তালিকায় কর্মরত ১৬জন সেনা কর্মকর্তার নাম ছিল। তাদের মধ্যে হাসিনা আমলের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহম্মদ ছাড়া বাকিদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। সেনার অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানিয়েছেন, কবীর আহম্মদ আত্মগোপন করে রয়েছেন। তার এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন হল এই ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার কতটা প্রভাব পড়তে পারে। প্রথমত, যাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচার কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে? ফৌজদারি আইনে না কি সামরিক আইনে। এই নিয়ে বেশ কয়েকটি মত উঠে আসছে। একটি মত বলছে, তাদের বিচার হবে সেনাবাহিনীর ভিতরেই। অপর একটি মত বলছে, তাদের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আরও একটি অংশ বলছে, এদের বিচার হবে সাধারণ আদালতে। যদিও প্রথম মতের পাল্লা বেশি। কারণ, সেনানিবাসের একটি অংশকে সাময়িক কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরধা ট্রাইব্যুনালের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কারাগার শব্দটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, প্রযোজ্য জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্যের হস্টেল, কিংবা যে কোনও সরকারি জায়গা। যেটাকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সেখানে তাদের রাখা হবে।’ এই বক্তব্য থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিউকিউটরের মতপার্থক্য রয়েছে। সরকার চাইলে অভিযুক্তদের তাদের তৈরি আবাসে রাখতে পারবেন না। রাখতে হবে আদালত যেখান তাদের থাকার নির্দেশ দেবে। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্বেগ, সবকিছুকে আইনে আওতায় নিয়ে আসা। কাউকে গ্রেফতার করা হলে তাঁকে অবশ্যই গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে।’ সেনা চাইছে, কর্মরত সদস্যদের বিচার চলাকালীন তাদের হেফাজতে রাখতে। সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালতে চিফ প্রসিকিউটর। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বলা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়না জারি হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের মাধ্যমে হাজির করতে হবে। এখন দেখার বিষয় পুলিশ কী করে?












Discussion about this post