সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এখন কী করবেন? তিনি কি তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। নাকি তিনি সাদরে গ্রেফতার বরণ করবেন? অথবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) দাঁড়াবেন? প্রশ্ন তোলার কারণ সে দেশে বাহিনীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক অস্থিরতা। প্রাক্তন ও কর্মরত বেশ কয়েকজন সেনাসদস্যকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার। যদিও বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাধানিক বিশেষষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ সেনা যদি মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকত, তাহলে জাতিসঙ্ঘ তাদের শান্তিরক্ষীবাহিনীতে তাদের নিত না। অথবা তাদের বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হত। সে দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইঁয়া তো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ সাক্ষী থাকবে একধিক নৈরজ্যকর পরিস্থিতির। তার ভিত তৈরি গিয়েছে।
এবার আসা যাক বাহিনীর মাথার প্রসঙ্গে। ইতিমধ্যে তাঁকে নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আগামীদিনেও হবে। নতুন যে তথ্য তাঁর সম্পর্কে পাওয়া গেল তিনি বিদেশে তাঁর ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। জানতে চেয়েছেন সে সব দেশে থাকা তাঁর পক্ষে কতটা নিরাপদ হবে? সেখানে যদি তিনি বাড়ি ভাড়া করে থাকতে চান, তাহলে তাঁর খরচ কত? এমনকী মাসিক খরচের একটা প্রাথমিক হিসেবও নাকি তিনি তাদের থেকে চেয়েছেন।
অন্য একটি সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষকর্তা সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁকে তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন, যদি তাঁর (জেনারেল ওয়াকার) মনে হয়, তিনি দেশ চালাতে পারছেন না বা কর্তব্য ঠিকঠাক পালন করতে পারছেন না, তাহলে তাঁর পক্ষে সম্মানজনক পথ হল জেনারেল পদে ইস্তফা দেওয়া। আর তিনি যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁর হাতে ব্যাটন হস্তান্তর করে দিন। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, জেনারেল তাঁদের সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। ওই সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ওয়াকার তাঁর পরিবারের জন্য ইউরোপের একটি দেশে মাল্টিপিল ভিসা নিয়ে রেখেছেন।
ওয়াকার ক্ষমতা দখল করার একাধিক সুযোগ হারিয়েছেন। আগামীদিনে তাঁর সামনে আর এই ধরনের সুযোগ না আসার সম্ভাবনা বেশি। সুযোগ ছিল সেনা-সমর্থনে একটি সরকার গঠন করা। কিন্তু সেই সুযোগ তার আর এখন নেই। একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার। গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের পরে পরে দেশবাসীর মধ্যে তাঁকে নিয়ে একটা আশার আলো তৈরি হয়। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন বলা ভাল বিশ্বাস করেছিলেন, সেনাপ্রধান ওয়াকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সদর্থক ভূমিকা নেবেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সেনাপ্রধান ওয়াকার করেছেন ঠিক উলটোটই। তিনি তদারকি সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেই সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে পরিণত করেন। তাঁর বসার কথা ছিল চালকের আসনে। কিন্তু তিনি নিজেই নিজেকে বাসের খালাসির আসনে বসিয়েছেন। ফলে, তার সর্বজনগ্রাহ্যতা কমেছে। কমেছে তাঁর জনপ্রিয়তাও।
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীমহলের একাংশের মতে, সেনাপ্রধান ওয়াকার স্বেচ্ছায় আইসিটির কাঠগড়ায় নিজেকে তুলুক। জোর গলায় তিনি বলুন, আইসিটিতে বাহিনীর প্রাক্তন ও কর্মরত একাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে, সেই অভিযোগের দায়ভার তিনি স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। তাঁদের মতে, সেনাপ্রধান ওয়াকার যদি মনে করে থাকেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইসিটি কোনও চার্জ গঠন করবে না, তাহলে তিনি অলীক স্বপ্ন দেখছেন। আর অলীক স্বপ্ন কোনওকালেই কোনওদিন কারও পূর্ণ হয়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post