জুলাই সনদ সই হওয়ার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে চর্চার বিষয় ছিল সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার এবং তাঁর বাহিনী আর তদারকি সরকার এবং তার প্রধান। এখন আলোচনার বিষয় বদলে গিয়েছে। জায়গা করে নিয়েছে জুলাই সনদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি), সেনবাহিনীর একাংশ প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যদের আইসিটির আওতায় নিয়ে আসা এবং তা নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ। জুলাই সনদ কি? এককথায় সোনার পিতলা কলস। সেটা কেমন, তা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
জুলাই সনদ হল মহম্মদ ইউনূস সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনগুলির সুপারিশ। রয়েছে ৮৪টি সুপারিশ। এই সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি একমত হয়নি। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের ভিন্নমত বা ডিসেন্ট নোট সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। মতপার্থক্য শুধু সুপারিশ নিয়েই নয়। গণভোট নিয়েও দলগুলির মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। এনসিপি বা প্রাক্তন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রথম থেকেই একটাই দাবি জানিয়ে এসেছে। তাদের দাবি হল বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান চালু করা। সরকার তাদের দাবি মানেনি। এমনকী অধিকাংশ রাজনৈতিকদলও তাদের ওই উদ্ভট দাবি মানে অস্বীকার করে।
অন্যদিকে, বিএনপি চায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে আলাদা ব্যালটে গণভোটের পক্ষে ও বিপক্ষে রায় নেওয়া হোক। গত ১৫ অক্টোবর সরকারের তরফে একটি সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে তারা তাদের অবস্থান তদারকি সরকারকে স্পষ্ট করে দেয়। এর যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এতে নির্বাচনের খরচ বেঁচে যাবে। দুটি নির্বাচন করা মানে একটা ঝুঁকিকে স্বাগত জানানো। এটা মানুষ চাইবে না। একই দাবি জামায়াতের। মানুষ সনদ বাস্তবায়নে তাদের বক্তব্যে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এই সংস্থান রাখার দাবি জানিয়েছে ওই দুই দল। অন্যদিকে, চার বাম দল জানিয়ে দিয়েছে, জুলাই সনদে তারা সই করবে না।
অথচ এই জুলাই সনদ নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান কত না গালভরা কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে কলমটি দিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সনদে সই করবেন, সেই কলম রাখা হবে জাদুঘরে। এই সনদ বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। মানে বাংলাদেশে ঘটতে চলেছে নিঃশব্দ বিপ্লব। ওনার অনুমান একেবারে ভুল নয়। ঢাকায় জাতীয় সংসদের বাইরে অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ নির্বিচারে লাঠি চালায়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণ হয়েছে। মূল অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করা যায়নি। আসলে দ্বন্দ্বে আর ধন্দে পড়লে যা হওয়ার জুলাই সনদ ঘিরে সেটাই হয়েছে।
একদিকে, জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, আবার সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও কর্মরত সদস্যদের আইসিটির আওতায় নিয়ে আসা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে বাহিনীর মধ্যেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সেনাপ্রধান ওয়াকারের বিরুদ্ধে। সেনাপ্রধান ওয়াকার এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ জনেরা চাইছেন এই অভিযুক্ত প্রাক্তন ও কর্মরত সেনাসদস্যদের বিশেষ জায়গায় রাখতে। সেই জায়গাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। ওদিকে, আবার আইসিটির চিফ প্রসিকিউটার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কোথায় রাখা হবে সেটা ঠিক করবে আদালত। বিতর্ক আরও আছে। এদের বিচার কোন আইনে হবে? সামরিক আইনে না বেসামরিক আইনে?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post