উনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য ১৪০০ বার ফাঁসি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেটা বাস্তবে কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই ওনার অন্তত একবার ফাঁসি হোক। ’
বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) সওয়াল-জবাবের সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এই শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা গণঅভ্যুত্থান, যে অভ্যুত্থান হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে, সেই গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শোর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়েও এত মানুষের প্রাণহানি হয়নি। তিনি প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানেরও একই শাস্তি দাবি করেন। যুক্তি একই। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, অপরাধের গভীরতা এতটাই বেশি যে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া কোনও শাস্তিই এদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। তাজুল ইসলামের এই দাবি মনে করায় ‘সোনার কেল্লা’-র ভবানন্দের চ্যালার উদ্দেশ্যে ফেলু মিত্তিরের সেই উক্তি – ‘আপনার কি শাস্তি হবে জানেন তো? তিন মাস জেল আর সাত দিনের ফাঁসি।’ এমন শাস্তি যে কোনও দেশের আদালত দিতে পারে না, তা সকলের জানা। এ প্রতিবেদন তা নিয়ে নয়, এই প্রতিবেদনের মূল বিষয় হাসিনা। হাসিনাকে যে আইসিটির আওতায় আনা হবে, সেটা চিফ প্রসিকিউটর আগেই স্পষ্ট করে দেন। তবে হাসিনা আমলের প্রাক্তন পুলিশকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের শাস্তি কী হবে, সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব তিনি আইসিটির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এই মামলায় প্রসিকিউশন থেকে ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা ছাড়া পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে মামলার দুই আসামি পলাতক থাকায় কোনও সাফাই সাক্ষী উপস্থাপনের সুযোগ তারা পাননি।
প্রশ্ন উঠছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা কি কোনওভাবে ফেঁসে গেলেন? প্রশ্ন তোলা কারণ, আইসিটি চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলাম হাসিনাকে কাঠগড়ায় হাজির করাতে চাইছেন। কিন্তু সেটা যে কোনওভাবেই সম্ভব নয়, সেটা তাজুল বেশ ভালোই জানেন। কারণ, হাসিনা রয়েছেন ভারতে। সাউথব্লক তাকে ঢাকা ফিরিয়ে দিচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে এখনও সুস্পষ্ট কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে এটা ধরে নেওয়া যেতেই পারে, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সাউথব্লক কতগুলো হায়নার সামনে ছেড়ে দেবে না। তর্কের খাতিরে এমন একটা চিত্র কল্পনা করা যেতে পারে, যে হাসিনা দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তদারকি সরকারের তল্পিবাহক পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে সোজা নিয়ে গেল আইসিটি-তে। সেখানে তাঁর বিচার হল। রায় দেওয়া হল মৃত্যুদণ্ডের। তদারকি সরকার আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। সেটাও অসম্ভব। কারণ, এই আদালতের তো কোনও সাংবিধানিক বৈধতাই নেই। তাই, আইসিটি হাসিনাকে ফাঁসিকাঠের ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া মাত্র গোটা আদালত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল, আদালতের বাইরে হাসিনা বিরোধীরা আনন্দ বাজি পটকা ফাটাতে শুরু করলেন, এমনটাও হবে না। তাঁর কারণ, বাংলাদেশের পাশে রয়েছে সাউথব্লক। আন্তর্জাতিকমহল লাগাতার ইউনূস এবং তাঁর সরকারের ওপর চাপ দিয়ে চলেছে। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিল ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তুলে নিতে তদারকি সরকারকে চিঠি দিয়েছে।












Discussion about this post