গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পর সংবাদমাধ্যমের সব আলো শুষে নিয়েছিলেন যে ক’জন, তার মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইঞা অন্যতম। বলা হচ্ছিল বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের দুই হোতার একজান এই তরুণ-তুর্কি নেতা। দ্বিতীয়জন মাহফুজ আলম। তারপর থেকে একাধিকবার নানা কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন আসিফ মাহমুদ । বাংলাদেশের বহু গণমাধ্যম তাঁর একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চালায়। সময় যত গড়িয়েছে আসল চরিত্র বেরিয়ে পড়েছে। আসিফ আদতে কট্টর মৌলবাদী। সেটা প্রমাণ করতে এই প্রতিবেদন।
আমরা সকলেই জেনে গিয়েছি যে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সে দেশে মৌলবাদী শক্তি মাথা চাড়া দিতে শুরু করে। এখন ইউনূসের থেকে তাদের দাপট আরও বেশি। বলা যেতে পারে, বাংলাদেশকে এখন তারাই চালাচ্ছে। তদারকি সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যে কজন ছাত্রনেতা ছিলেন তাঁরা সকলেই তাঁদের পদ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এখন উপদেষ্টা পদে আছেন মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইঞা। যে কারণে তাঁকে নিয়ে এই প্রতিবেদন, এবার সেটার উল্লেখ করা যাক।
২০১৩-য়ের ৫ মে হেফাজত – ই – ইসলাম বাংলাদেশে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। ওই কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এতটাই তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। ঘটনায় প্রাণ হারান ৫৮ জন। প্রায় একই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছিল ২০২১-য়ে। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৯ জনের। গত ১৮ অক্টোবর তদারকি সরকারের অন্যতম এই উপদেষ্টা একটি জনসভায় দেওয়া ভাষণে বলেন, দুটি ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি শহীদ স্মারক তৈরি করা হবে। ওই দিন মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় আর্থিক সাহায্য।
গত ২৪ অক্টোবর হেফাজত – ই – ইসলাম একটি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। তাদের এই কর্মসূচি ইসকনের বিরুদ্ধে। এইচ ই আই-য়ের দাবি, ইসকন আদতে একটি হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন। ধর্ম প্রচারের নামে এরা তলে তলে ভারতের হয়ে চরবৃত্তি করে। এর ঠিক পাঁচদিন বাদে ২৯ অক্টোবর তাদের খাগড়াছাড়ি শাখা একটি মানববন্ধন তৈরি করে। দাবি তোলে তদারকি সরকার অবিলম্বে ভারতের এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করুক। যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইযাকে নিয়ে একসময় গর্ব করা হত, সেই আসিফ হেফাজত-ই-ইসলামির পাশে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা যে একেবারেই নিরাপদে নেই সেই খবর পেয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। সূত্রের খবর তিনিও ইসকনভক্ত। অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদকে ভীষণই শ্রদ্ধা করেন। বাংলাদেশের ইসলামি মৌলবাদী শক্তি যেভাবে একের পর এক হিন্দুদের নিশানা করেছে, ইসকন মন্দির ভেঙে দিচ্ছে, ইসকনের সন্ন্যাসীদের নানাভাবে শারীরিক হেনস্তা করছে, তাতে তিনি রীতিমতো উদ্বিগ্ন। তিনি তাঁর উদ্বেগের কথা তদারকি সরকার প্রধানকে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। যে সরকার সেনাবাহিনী বেশ কয়েকজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাকর্তাদের মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের কাঠগড়ায় তোলার ক্ষমতা রাখে, সেই সরকার কি চাইলে এই ইসলামী মৌলবাদী শক্তির ডানা ছাঁটতে পারে না? পারে। কিন্ত করতে চাইছে না। ইউনূস চাইছেন দেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হোক, যাতে নির্বাচন পিছিয়ে যায় এবং তিনি আরও কয়েকদিন ক্ষমতায় টিকে যেতে পারেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post