কেমন আছেন বেগম জিয়া?
এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থীতিশীল হলেও আগামী কয়েকটি দিন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বেগমকে রাখা হয়েছে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ)। গত ১২ দিন ধরে তিনি এই হাসপাতালেই রয়েছেন। জিয়ার চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড। দেশি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁকে রাখা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসা সহায়তায় ব্রিটেন থেকে এসেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক রিচার্ড বিয়েল। জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বুধবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনুস। গিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনার তিন শাখার প্রধান। সেনার জনসংযোগ দফতর থেকে এই খবর দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ নাজমুল হাসান বুধবার জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, রাত ৯টা নাগাদ তাঁরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন।২০ মিনিট থাকার পর তাঁরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। একই রাতে জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন জামাত নেতা তথা দলের প্রধান শফিকুর রহমান। কথা বলেন জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের ডাক্তাদের সঙ্গে। প্রয়োজন হলে দলের তরফে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করেন জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তথা দলের প্রবীণ নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ তারিখ থেকে জিয়া এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিছুদিন আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হয়েছিল। তবে এখন তিনি অনেকটা স্থিতিশীল। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। বলা ভালো ডাক্তাদের পরামর্শ মেন্টেন করছেন। বাংলাদেশের লাখো-কোটি মানুষের দোয়ায় এই যাত্রায় তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। ’ একাধিক রোগে আক্রান্ত বিএনপি দলনেত্রী। রয়েছে কিডনির সমস্যা। লিভারের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। চোখেরও সমস্যা রয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় জিয়াকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গত ১২ দিন ধরে এই হাসপাতালেই রয়েছেন বিএনপি নেত্রী।
এদিকে, এদিনের আরও একটি খবরে রহস্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তার প্রটোকল অনুযায়ী এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছের একটি মাঠে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনা এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারকে টেক অফ এবং এবং ল্যান্ড করানো হবে। বুধবার বেলা দেড়টা নাগাদ প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই খবর দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পেজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ‘স্পেশ্যাল সিকিউরিট ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসারে, ৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে এভারকেয়ার হাসাপাতালের কাছে একটি মাঠে বাংলাদেশ সেনা এবং বিমানবাহিনীর চপার পরীক্ষামূলকভাবে টেক অফ এবং ল্যান্ডিং করবে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে সেই সময় শুরু হয়ে গিয়েছে চপারের টেক অফ এবং ল্যান্ডিং।
বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সরকার তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করার পর এসএসএফ ও পিজিআর নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেন।
প্রশ্ন অন্য জায়গায়। জিয়াকে নিয়ে এই যে সব গুজব খবর ছড়ানো হচ্ছে, সেটা কোন তরফ থেকে করা হচ্ছে ? কেনই বা করা হচ্ছে? এই যে হেলিকপ্টারের ওঠা এবং নামা, তা নিয়েও কৌতুহল তৈরি হয়েছে। সরকারকে হঠাৎ করে কেন বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করে জানাতে হল? সরকার বিভ্রান্ত না হওয়ার কথা বলছে। কিন্তু দেশবাসী তো রীতিমত বিভ্রান্ত।












Discussion about this post