পুতিনের দিল্লি সফর প্রসঙ্গে সোনার কেল্লায় জটায়ুর সেই বিখ্যাত সংলাপ স্মরণ করতে হয় – হাইলি সাস্পিসাস।
কেন বলেছিলেন তাও আমরা সকলেই জানি। ড. হাজরাকে ট্রেনে ওরকম কম্বল চাপা অবস্থায় জুবুথুবু বসে থাকতে দেখে জটায়ু তাঁকে একটু সন্দেহের চোখেই দেখেছিলেন। শত হলেও তিনিও তো একটু আধটু গোয়েন্দা গল্পটল্প লেখেন। তবে ফেলু মিত্তির কোনও মন্তব্য না করে উল্টোদিকে কম্বল দিয়ে গোটা শরীর মুড়ে ফেলা লোকটাকে শুধু মেপেছিলেন। কোথাও যেন তাঁর একটু খটকা লেগেছিল।
আবার আমেরিকাকে নিয়ে হেনরি কিসিঞ্জারের সেই অমোঘ ঘোষণাও বা কী করে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘ইট মে বি ডেঞ্জারাস টু বি আমেরিকা’জ এনিমি, বাট টু বি আমেরিকাজ ফ্রেন্ড ইজ ফাটাল। ’ এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে জটায়ুর সেই ‘হাইলি সাস্পিসাস’ মন্তব্য যেমন ফেলে দেওয়া যাবে না। আবার আমেরিকাকে নিয়ে হেনরি কিসিঞ্জারের ওই বিখ্যাত মন্তব্য কোনওভাবেই দূর ছাই করা যাবে না। পুতিনের দিল্লি সফরের সঙ্গে এই দুই উক্তি কীভাবে জড়িয়ে, সেটাই সবিস্তারে তুলে ধরা হবে।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিন দিল্লি রওনা হওয়ার আগে কেজিবি থেকে কূটনৈতিক চ্যানেল মারফৎ সাউথব্লককে একটা বার্তা দেওয়া হয়। আর সেই বার্তা পেয়ে সাউথব্লকে শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি। রুশ প্রেসিডেন্ট বিমানে ওঠার আগেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডোভাল জরুরী বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই বৈঠককে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বললে অত্যুক্তি হবে না। সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। এদিকে আবার পুতিনের ভারতে আসার কথা ছিল ডিসেম্বরের ১২-১৩ তারিখ। সেই সফর তিনি আচমকাই এগিয়ে আনেন। সুতরাং ‘হাইলি সাস্পিসাস’ তো বটেই।
সাউথব্লকের এই তৎপরতার খবর চলে গিয়েছে উত্তরপাড়ায়। সেখানে গত কয়েকদিন ধরে রয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনিস। তিনি প্রাণ নাশের আশঙ্কা করছেন। এই ক্ষেত্রে হেনরি কিসিঞ্জারের উক্তি ভীষণ ভীষণভাবে প্রযোজ্য। কারণ, আমেরিকা তার প্রয়োজনে একটি দেশকে ভালোমতো ব্যবহার করতে পারে। আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এক লাথি মেরে ভাগারে পাঠিয়ে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে সেই দেশটিকে কাগজের ঠোঙা মোড়ানোর মতো মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে। কোনও কোনও সূত্র বলছে, আমেরিকার কাছে এখন বিষদাঁত ইউনূস। আর ইউনূসও বুঝে গিয়েছেন যে তিনি এতোদিন বিষাক্ত সাপের ফনা পা দিয়ে চেপে রেখেছিলেন। পা সরালেই এক ছোবলে ছবি। এই অবস্থায় ভারত সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
পুতিনের দিল্লি আসার আগে দোহার সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ উত্থাপন করতে হয়। সেই বৈঠকে ছিলেন খলিলুর রহমান। ভারতের তরফ থেকে ছিলেন চার আমলা, র কর্তা। আমেরিকার তরফে ছিলেন কাতারে তাদের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, সিআইইয়ের বেশ কয়েকজন কর্তা। বৈঠক হয়েছে দু দফায়। দ্বিতীয় দফায় খলিলুরের সঙ্গে বৈঠক করেন সিআইএ কর্তারা। সেই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সে ধরা হয় সার্জিও গোরকে। দোহা থেকে খলিলুর কার্যত হাঁপাতে হাঁপাতে বাংলাদেশ পৌঁছে দেখা করেন ইউনূসের সঙ্গে। বলা হচ্ছে,দোহা থেকে খলিলুর ভয়ংকর একটা নিয়ে দেশে ফিরে ইউনূসের কানে তুলে দেন। আর তার পর থেকেই নোবেল ম্যান ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বাংলাদেশেও কেজিবি ভীষণ রকম সক্রিয়। তারা সেখান থেকে কিছু বার্তা পেয়েছে। সেটা তারা তাদের সদর দফতরের কর্তাদের কানে তুলে দিয়েছেন। সেটা আবার পুতিনের কানে গিয়েছে। ফলে, বাংলাদেশ কিছু একটা অঘটন যে ঘটতে চলেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এদিকে আবার দোহা থেকে যে সময়সীমা বাংলাদেশের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সেটা কিন্তু শেষ। তাই, পদ্মাপার থেকে অপ্রত্যাশিত খবর আসতেই পারে। ক্ষেত্র যে প্রস্তুত হয়ে রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post