সীমান্তবর্তী এলাকাতে ভারতীয় সেনার বড় সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে জব্দ করতে দিল্লির নয়া সীমান্ত নীতি। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক তলানিতে। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর ভারত বিরোধিতা বেড়েছে চরম আকারে। যেটা রিন্ধন দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তেও বিভিন্ন সময় তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা। কখনও ভারতের অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে, আবার কখনও সীমান্তে কাঁটাতার লাগানো নিয়ে। এর মধ্যে ফের আবার ভারত এক তরফাভাবে কাঁটাতার দিচ্ছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে বাংলাদেশের অন্দরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। ভারতের তরফে বলা হয়েছে, পুরনো বেড়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য নতুন করে বেড়া দেওয়া প্রয়োজন। বিএসএফএ ত্রিপুরা ফ্রমটিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল অলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের বেশিরভাগ অংশের কাঁটাতারের বেড়াগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে ত্রিপুরায় অতি বৃষ্টি আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই কারণেই নতুন করে বেড়া স্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এমনকি তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী সীমান্ত ব্যবস্থা জোরদার এর নতুন ডিজাইনের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এমনকি সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির আয়ত্তে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতে প্রবলভাবে উত্তেজনা ছড়ায়। শুধু তাই নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবৈধভাবে ভারতে বসবাসসকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ওপার বাংলাতে পাঠাচ্ছে। আর পুশ ব্যাক করতেই মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ক্ষিপ্ত। তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। এটা নিয়েও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। তারমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা করলে ঢাকা থেকে নয়া দিল্লিতে চিঠি পাঠানো হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যপর্ণ চাইছে ঢাকা। যদিও ভারত এই বিষয়ে প্রথমদিকে কিছু না বললেও, এখন তারা বলছে, বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকারের হাতে হাসিনাকে তুলে দেবে না, সেটা বলাই বাহুল্য। যখন শেখ হাসিনা বিষয় নিয়ে দুই দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত তখন আরও বেশি করে উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছে সীমান্তের কাঁটাতার। গত বছর ৫ই অগাস্টের পর সীমান্তবর্তী এলাকাতে প্রবলভাবে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা বাড়ছে। সেই কারণেই ভারত কড়াকড়ি করছে। বিএসএফের নজরদারি বেড়েছে। আর এতেই ক্ষিপ্ত বাংলাদেশ। কারণ অভিযোগ রয়েছে, বিজিবি বহু অনুপ্রবেশকারীকে ভারতে আসার জন্য সাহাষ্য করছে। তবে এখন দেখার, অই ইস্যুতে আদেও বাংলাদেশ সরকার কোনও পদক্ষেপ করে কিনা।












Discussion about this post