ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যে সংযত হওয়ার বার্তা ইউনূসের! ইউনুস সরকারের শাসন শুরু হতেই, ছাত্রনেতাদের বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে, ভয়ংকর হুশিয়ারি দিতে, এবং সরকারি অফিস কোর্ট,আদালত দখল করে আন্দোলন করতে দেখেছি কিন্তু কোনদিনই মোঃ ইউনুস তিনি ছাত্র নেতাদের সংযত হওয়ার নির্দেশ দেননি। এই প্রথম ড মুহাম্মদ ইউনুস এর মুখে সংযত হওয়ার কথা, ছাত্রলীগ তাদের উদ্দেশ্যে সংযত হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বার্তা প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের। কিন্তু দেশ জুড়ে যখন সেনানবাহিনীর ওপর আস্থা দৃঢ় হচ্ছে, তখন কি নয়া ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ইউনুসের?
গত ৪৮ ঘন্টায় বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ। বৃহস্পতিবার দিনের শুরু থেকেই বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন জনের পদত্যাগ এর দাবী করেছে, তেমনি দিনের শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস তার ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক দল এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলামকে ডেকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এই দিনের শুরু থেকে একটা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। উপদেষ্টা মন্ডলের একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল মোহাম্মদ ইউনুসের ভবন যমুনায়। আরে বৈঠকের পর থেকেই সমাজের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি পোষ্টের মাধ্যমে মোহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগের পরিকল্পনার আভাস দিতে থাকে। এরপর যত সময় এগোতে থাকলো সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এলো প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা। এরপর থেকেই এই গুঞ্জন যেন আরো তীব্রতা লাভ করল।
তবে এই দিনের ঠিক দুদিন আগে থেকেই, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বুধবার দুপুর থেকে রাজধানীতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে মনে তো করি। বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যার পর সেখানে এসে সাংবাদিকদের সামনে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। পাশাপাশি,উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের হস্তক্ষেপের কারণে শপথ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ইশরাক।
হাইকোর্টের রায়ে মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেন শপথ গ্রহণ করার নির্দেশ পেলেও, তিনি তার সমর্থকদের বলেন, দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলমান থাকবে এবং আরো বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করার বার্তা দেন ইশরাক।
এরপর পাল্টা এনসিপি তরফে দাবিয়ে বিএনপি’র পক্ষ হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে কাজ করছে তিন উপদেষ্টা। অর্থ উপদেষ্টা শিক্ষা উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা এই তিনজনকে পদত্যাগ করতে হবে অন্তর্ভুক্তির সরকার থেকে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন মুখোমুখি বিএনপি ও এন সি পি।
উল্লেখ্য, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল চর্চিত নাম এখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকাররুজ্জামান। বাংলাদেশের বহু সাধারণ মানুষ চাইছেন দেশের এই অস্থিরতায় সেনাবাহিনীই দেশের ক্ষমতা হাতে তুলে নিক । দেশ বিদেশ থেকে বহু বাংলাদেশিরা সে দেশে সেনা শাসনের আর্জি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলছে । সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান যে ক্ষমতা দখল করতে চান না তা বারে বারে তার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বারংবার বলেছেন নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে ব্যারাকে ফিরতে চান সেনাবাহিনী। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করছেন ইউনুস সরকারকে নিয়ে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে একমাত্র সেনাবাহিনীই পারে দেশে শান্তি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে।
কিন্তু এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন ইউনুস কি সত্যিই তার পদ থেকে সত্যিই সরে যাবেন?বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনা প্রধানের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে দেশের করিডোর থেকে বন্দর, সেন্ট মার্টিন বা দেশের সংস্কার এই সব বিষয়েই সেনাপ্রধান সরাসরিঅন্তর্বর্তী সরকারের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, সেনা প্রধানের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য এই অসন্তোষের পর প্রধান উপদেষ্টা পদে ইউনুসের থাকা নিয়ে সম্মানের প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই কারণেই অনেকে মনে করছেন, প্রতিহিংসা থেকে পদত্যাগ করার কথা বলে ইউনুস আসলে প্রমাদ গুনছেন, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বাধা, দেশের সেনাপ্রধানকে সরানোর। এখন দেখার সত্যি কি ইউনুসের শাসন শেষ করে দেশে সেনা শাসন জারি হবে? নাকি সেনাপ্রধানকে সরাতে পদত্যাগের খবর, ইউনুসের নয়া ষড়যন্ত্র?












Discussion about this post