গত তিন দিন ধরে বাংলাদেশের অন্দরে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল মহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ ঘিরে। শোনা গিয়েছিল, তিনি নাকি পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। এমনকি ছাত্রনেতারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, যাতে এই মুহূর্তে দেশের হাল ছেড়ে না যান। এবার এই গুঞ্জনের ইতি টানলেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব। তিনি জানিয়ে দিলেন, মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করছেন না।
ফয়েজ আহমেদ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না। শুধু তাই নয়, তিনি দেশের সেনাপ্রধানকেও শৃংখলার পাঠ দেন। ফয়েজ আহমেদ ফেসবুকে লেখেন,প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না।
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এর ক্ষমতা প্রয়োজন নেই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ডেমোক্রেটিক ট্রাঞ্জিশনের জন্য ড. ইউনূস স্যার এর দরকার আছে। এছাড়াও তিনি লেখেন, আজকের দিনে কোন সভ্য দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করে না। এমনকি তারা নাকও গলায় না। পরে তিনি সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন। এবং তিনি নতুন একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন, ডিসক্লেইমার। মোহাম্মদ ইউনুস প্রসঙ্গে পোস্টটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত।
যদিও তার এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। তিনি দেশের সেনাবাহিনীকে শৃংখলার পাঠ কেন পড়াতে গেলেন? উঠছে প্রশ্ন। আসলে সেনানিবাসের সেনাপ্রধান এবং সেনা কর্তাদের বৈঠকে আলোচিত বিভিন্ন প্রসঙ্গ সূত্র মারফত গণমাধ্যমের সামনে আসে। সেই সূত্র মারফত খবর অনুযায়ী, সেনাপ্রধান ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চ্য়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বলা সবকিছুই প্রধান উপদেষ্টার দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই ফয়েজ আহমেদের এই পোস্ট, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
তবে আরো একবার সামনে এলো সেনাবাহিনী এবং সরকারের মতবিরোধ।
তবে এটা সত্যি, যতক্ষণ না সেনাবাহিনীর কোনও একটি সিদ্ধান্তে এসে দাঁড়াচ্ছে, ততক্ষণ সেনাবাহিনী এবং সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই নানা মহলের আলোচিত হয়েছে, যে গোটা দেশটি বিদেশি শক্তির হাতে চলে গেছে। অর্থাৎ তারা বাইরে থেকে যেভাবে পরিচালনা করছে, সেই ভাবেই পরিচালিত হচ্ছে সরকার এবং দেশ। কাজেই এই মুহূর্তে সেনাবাহিনী যদি হাল না ধরে, তবে আগামী দিনে গোটা দেশটির কি পরিণতি, সেটি বোধহয় আন্দাজ করা যায়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন, দেশের সেনাবাহিনী কেন নিশ্চুপ রয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনী যে সবকিছু দেখে সংযম ছিল, সেটা এখন প্রমাণিত। তবে সংযমের প্রত্যুত্তরে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছেন। কিন্তু এখনো সেনাবাহিনীর ওপরেই আস্থা ভরসা রয়েছে মানুষের। এখন দেখার, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কি পদক্ষেপ করেন।












Discussion about this post