গত বছর ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তার মাথায় বসানো হয় নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনূসকে। কিন্তু পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। বরং দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। একদিকে সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলি দুষছে, ছাড়ছেন না সেনাপ্রধানও। আর সে সব থেকে বাঁচতেই পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, পদত্যাগ করছেন না মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে পরিস্থিতি গোটা দেশের তৈরি হয়েছে তাতে পর পাবেন না নোবেল জয়ী।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি জানান বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ। অর্থাৎ প্রত্যেক দিন বাংলাদেশের নানা প্রান্তে আন্দোলন বিক্ষোভ হয়েই চলেছে। আর তাতেই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি যে সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন, তার সঙ্গে একমত হতে পারছেন না দেশের রাজনৈতিক দলগুলি। স্বাভাবিকভাবেই কাজ এগোচ্ছে না। কাজে নানাভাবে অসহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলি সবই তার পরিকল্পনা।
মোহম্মদ ইউনূসের যে গ্রামীণ ব্যাংক রয়েছে, সেখানে ৫০,০০০ কোটি টাকার যে ঋণ ছিল সেটি তিনি মুকুব করিয়ে নিয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি দাবি করেছিলেন, খাদ্যশস্য থেকে শেয়ার মার্কেটে টাকা সবকিছু ছিল। বাংলাদেশের মানুষের এতটা দুর্দিন হত না। কিন্তু সেই টাকা এখন কোথায়? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে এর পাবেন না ইউনূস। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাংলাদেশের সেনা ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশের যতগুলি বন্দর রয়েছে, সমস্ত জায়গাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু ইউনুস নন, ইউনূসের বিদেশী সঙ্গীদেশে বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। তাদেরও বাংলাদেশ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা। সেই তালিকায় রয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ান হাসান এমন বহু নাম রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে আছেন। তবে তারা যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন, সেই কারণেই বন্দর ঘিরে ফেলেছে সেনাবাহিনী।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ইউনূসের এই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এলো কিভাবে? জানা যাচ্ছে, মোহম্মদ ইউনূসের চার ঘনিষ্ঠ তার পাশ থেকে সরে গিয়েছেন। একজন হলেন খলিলুর রহমান। তিনি মোহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ট হলেও এখন তার পাশে নেই। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অন্যজন হলেন খালেদা জিয়া এবং সর্বশেষ ইশরাক হোসেন। ফলে দেশ চালাতে কতটা তিনি ব্যর্থ সেটা পরিষ্কার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে সেনা ক্ষমতা নিয়ে নিলে বড় বিপদে পড়বেন তিনি। কারণ তার জমানায় হয়ে চলা সমস্ত দুর্নীতির জবাব তাকে দিতে হবে। এমনকি সমস্ত হিসাব না মিললে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার কতদিন তার পদ ধরে রাখতে পারেন।












Discussion about this post