লাদাখের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সোনাম ওয়াংচুককে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে। তাকে রাখা হয়েছে যোধপুরের একটি জেলে। পুলিশের তরফ থেকে এই প্রথমবারের জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করা হল। সাংবাদিক সম্মেলন করেন লাদাখ পুলিশের ডিজি এসডি সিংহ জয়সওয়াল। সম্প্রতি পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ওয়াংচুকের বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচির ভিডিও সীমান্তের ওপারে পাঠাতেন।
তাঁর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে লাদাখ পুলিশের ডিজি বলেন, তদন্তে যা পাওয়া গিয়ছে, তা এখনই প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। আপনারা চাইলে তাঁর প্রোফাইল এবং অতীত জানতে চান, তা সবটাই ইউটিউবে আছে। সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে তিনি আরব বসন্তের কথা বলেছেন। সম্প্রতি নেপাল-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কায় যে বিক্ষোভ হয়েছে, সেই সব কথা বলে মানুষকে উস্কে দিয়েছেন। নেপালে যা হয়েছে, তা সাম্প্রতীক অতীতে হয়নি।
সোনাম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও ডিজি জানিয়েছেন। এক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে তাঁর যোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশ সফরের কথাও লাদাখ পুলিশের ডিজি উল্লেখ করেন। ওয়াংচুকের বেশ কয়েকটি বিদেশ সফরকে সন্দেহজনক বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করছে লেহ অ্যাপেক্স বডি ও কেডিএ। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এই নিয়ে কয়েক দফা কথাও হয়েছে। কিন্তু কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি।
এই প্রসঙ্গে কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স-র কো চেয়ারম্যান আসগর আলি কারবালাই দিন দুয়েক আগে সাংবাদিকদের জানান, গত ২৭ মে কেন্দ্রের সঙ্গে শেষ আলোচনা হয়। এর পর এক মাসের মধ্যে ফের বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে কার্গিল এবং পরে লেহ-তে একের পর এক অনশনের পরেও সরকার নীরব থেকেছে।
তিনি জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ফের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক ৷ এই আবহে দ্রুত বৈঠক ডাকার বদলে ১১ দিনের অনশনের পর কেন্দ্রীয় সরকার ৬ অক্টোবর বৈঠকের তারিখ স্থির করে ৷ নেতা বলেন, “অনশনে দু’জন প্রবীণ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয় ৷ স্বভাবত মানুষ উদ্বিগ্ন ছিল ৷ ওরা ওয়াংচুক এবং অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে ৷ এটা কেন্দ্রশাসিত প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ব্যর্থতা ৷ এই হিংসার জন্য সোনমের উপর যে অভিযোগ চাপানো হয়েছে, তা খারিজ করছি আমরা ৷”
এদিকে পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় সরকার এবং লাদাখের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনাটাই ভেস্তে দিতে চেয়েছিলেন ৷ আগামী ৬ অক্টোবর ফের দু’পক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ৷ তার আগে ২৫ সেপ্টেম্বর লাদাখের নেতাদের সঙ্গে একটি স্থানীয় আলোচনা হওয়ার কথাও ছিল ৷ সেসব জেনেও ওয়াংচুক তাঁর অনশন চালিয়ে গিয়েছেন ৷ ডিজি বলেন, “ওই সাধারণ বৈঠকটার মাত্র একদিন আগে ইচ্ছাকৃত শান্তিপূর্ণ আবহাওয়াকে নষ্ট করেছেন ওয়াংচুক ৷ তিনি প্ররোচনামূলক ভিডিয়ো আর মন্তব্য করেছেন, যার ফলে বুধবারের ওই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘অ্যাপেক্স বডি ও লেহ-র’ সহসভাপতি তথা লাদাখ বৌদ্ধ সমিতির প্রধান চেরিং দর্জে লাকরুক জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভ কোনও দুর্বৃত্তের কাজ নয়। লাদাখের শিক্ষিত ও বেকারদের পুঞ্জীভূত হতাশার কারণ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post