আবার সংবাদের শিরোনামে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে মার্কিন বিমানবাহিনীর আগমন এবং ড. ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমিত করার পদক্ষেপগুলি ঘিরে বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি তৈরির জল্পনা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ঘাঁটি সংক্রান্ত কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য ফাঁস হয়নি। তবুও একটি মহল থেকে বারে বারে গুজব ছড়ান হচ্ছে।
ভারত মহাসাগরের মধ্যে বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত কৌশলগত এবং ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নৌযুদ্ধে যেখানে মালাক্কা প্রণালী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা বঙ্গোপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ তৈরি হয়েছে। বিকশিত শক্তির গতিশীলতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে অগ্রসর হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল কোনও ইঙ্গিত হয়, সে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ভারতের মতো আঞ্চলিক অংশীদারকে বঙ্গোপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার অনুমতি দেবে।
উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপের প্রায় দক্ষিণে নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদি সেন্ট মার্টিনে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হলে এটির পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করবে। বলা হচ্ছে, আমেরিকা হাসিনা সরকারের কাছে এই দ্বীপ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেছি। কিন্তু হাসিনা সরকার সেটি দিতে অস্বীকার করায় আমেরিকা সুকৌশলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে এই নিয়ে কোনও কথা হয়েছে কি না, এই নিয়ে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। সবকিছুই অনুমান নির্ভর। একবার দেখে নেওয়া যাক সেন্ট মার্টিনে আমেরিকার কোনও স্বার্থ কাজ করছে?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নানা কৌশল এবং চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারা কয়েকশষো সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। অনেক দেশে নিজের মতাদর্শে সরকার বসিয়েছে। বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য, রাজনীতি ও প্রযুক্তিকে সব কিছুতেই হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য।
কিন্তু গত এক দশকে ভূরাজনৈতিক চিত্র বদলে গিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে চিন। চিন তাঁর প্রভাব ইতিমধ্যে বিস্তার শুরু করেছে। তারা আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। চিনের অর্থনীতি এবং সামরিক উত্থানে আমেরিকা বেশ বিচলিত। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের কৌশল আমেরিকা রীতিমতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমেরিকার আগে নজর ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। তারা তাদের নজর পরিবর্তন করে দক্ষিণ এশিয়াকে নিশানা করেছে। এই নতুন কৌশলের নাম তারা দিয়েছে ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্র্যাটেজি। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের এই বিশাল অঞ্চল এখন তাদের চিন্তার বিষয়। তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে শুরু করেছে। আমেরিকার একটি বড় স্বার্থ বাংলাদেশর ওপরেও রয়েছে। মূলত চিনকে টার্গেট করেই সেটা আবর্তিত। চিনের একদিকে মাত্র সমুদ্র। ফলে, সেটা তাদের দূর্বলতা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দু-পাশে সমুদ্র থাকলে চিনকে বাণিজ্য আমদানি-রফতানি নিয়ে তেমন ভাবতে হত না। তবে সেন্ট মার্টিনকে কেন্দ্র করে মার্কিন সেনার তৎপরতা নিয়ে তেমন কোনও তথ্যপ্রমাণ সহ খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকারের তরফেও কিন্তু সে ভাবে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া তেমন ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।












Discussion about this post