এস জয়শংকর যখন ঢাকায় গিয়েছিলেন, তখন তাঁর সামনে কার্যত হাতজোড় করে বসেছিলেন বাংলাদেশের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আর তিনিই কিনা এখন চরম ভারত-বিরোধী মুখ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে মুহম্মদ ইউনূস সরকারের আইন উপদেষ্টা দাবি করলেন, বাংলাদেশকে ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিভিন্ন জায়গায় ভারত নাকি আগ্রাসী ভূমিকা নিত। কিন্তু এখন বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে সবকিছু বলতে পারছে। এই আসিফ নজরুলকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। দিন কয়েক আগেই আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসিফ নজরুলের নামে একটা গালি দিলে একটু টাকা আসে। এবার বললেন, অন্তর্বর্তী সরকার নাকি ভারতের আধিপত্যবাদ বন্ধ করে দিয়েছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, তিনি নিজেকে একটু বেশিই খবরের শিরোনামে নিয়ে আসতে সচেষ্ট। কিন্তু কেন, আসিফ এমন কাণ্ড করছেন? কেউ কেউ বলছেন, তিনি আসলে নির্বাচনের পর পুনর্বাসন প্যাকেজ রেডি করে রাখতে চাইছেন, যাতে উপদেষ্টার পদ থেকে সরে যাওয়ার পর যাতে তাঁকে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারে একটা ভালো পদ দেওয়া হয়। সেই কারণেই তিনি সব পক্ষকে খুশি করার চেষ্টায় মেতে উঠেছেন।
শনিবার সকালে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ। সেখানেই আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, তাঁর নিজের কাছে মনে হয় বাংলাদেশে এখন বাক্স্বাধীনতা সবার আছে, শুধু সরকারের যাঁরা আছেন, তাঁদের নেই। এটা তিনি প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকারের সাফল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু আপনাদের কি কিছু জিনিস কখনও চোখে পড়েনি, এই যে এই সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে, এটা আমাদের কোনো অর্জন না? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অরাজক পরিবেশ নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও সরব হচ্ছে। এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশ বা জাতিসংঘও বাংলাদেশের বর্তামান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা হিসেবে যার দায় আসিফ নজরুলের উপরও বর্তায়। তাই তিনি ওই দিক থেকে সকলের অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতেই এমন মন্তব্য করছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। তিনি এমনও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু টাকা আসে।
মজার বিষয় হচ্ছে, এই ধরণের ‘ডায়লগ’ দেওয়া আসিফ নজরুলই ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর যখন ঢাকায় যান, তখন তাঁর সামনে এমনভাবে বসেছিলেন যে মনে হচ্ছে হেডমাস্টারের সামনে একজন অনুগত ছাত্র। তাঁর সেই ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে কটাক্ষ করেছিলেন স্বয়ং বাংলাদেশি নেট নাগরিকরাই। এক বাংলাদেশি নেটিজেন বলেছিলেন, আসিফ নজরুলের বসার নমুনা দেখে মনে হচ্ছে অধীনস্থ কর্মচারী বড় এক সাহেবের সামনে বসে আছেন। অথচ উনি যখন মিডিয়াতে কথা বলেন, তখন মনে হয় কত বড় সাহসী বীর পুরুষ। আরেকজনের বক্তব্য, ঠিক এভাবেই আমি কাঁচুমাচু হয়ে ভাইভা বোর্ডে বসে থাকি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাংলাদেশের একটি বড় অংশ এখন ভারত-বিরোধী কথা বলে ফুটেজ পাচ্ছে। সেই কারণেই নির্বাচনের মুখে সেরকম কিছু কথা বলে প্রচারের আলোয় এসে আসিফ নজরুলদের মতো লোকজন নিজের দর কিছুটা বাড়াতে চাইছেন।












Discussion about this post