অন্তবর্তী সরকারের কথা বাংলাদেশের সংবিধানে কোথাও উল্লেখ নেই। তাই এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন হতে পারে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনেই একমাত্র জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। যে হেতু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই হচ্ছে, তাই ওই নির্বাচন অবৈধ। এমনই দাবি জানিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন এক আইনজীবী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্টদের এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই আইনজীবীর নাম ইউনুছ আলী আকন্দ। তূবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের একটি হাইকোর্টে বেঞ্চ। পরে এই রিট পিটিশনটি অন্য একটি হাইকোর্টের বেঞ্চে জমা দিয়েছেন ওই আইনজীবী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশে এখন এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সরকারবিরোধী কোনও আবেদনই আদালত শুনতে চাইছে না। বিচারবিভাগকেও কার্যত তালু বন্দী করে রেখেছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ইউনূসের বাংলাদেশ এখন উত্তর কোরিয়া বা ইরানকেও ছাপিয়ে যেতে চাইছে। যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাঁকে বিনা বিচারে, বিনা অভিযোগে জেলে ভরে রাখা হয়। কয়েকটি সংগঠনের দাবি মোতাবেক, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ বা তাঁদের সমমনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের জেলে রাখা হয়েছে। এই সংখ্যাটা লক্ষাধিক। অর্থাৎ, কেউ আওয়ামী লীগের সমর্থক বা আওয়ামী লীগের কর্মী, আবার কেউ ইউনূস সরকারের সমালোচনা করছেন, এমন মানুষদের জেলে ভরা হচ্ছে। অন্যদিকে নানা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন অনেকে। মবের মতো মারাত্মক অভিযোগেও চোখে হাত চেপে বসে আছে ইউনূস প্রশাসন। বাংলাদেশে সরকারের সমালোচনা করে ছাড় পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিকরাও। ফলে অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আসন্ন নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। তিনি একইদিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন। একই সঙ্গে রিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বর্তমান ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা সরকার বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্বে থাকতে পারে না। এমন সরকারের আমলে নির্বাচনও তাই বৈধ হয় না।
সত সমালোচনা সত্বেও বাংলাদেশে নির্বাচন এখন দোড়গোড়ায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলিও নির্বাচনী সমঝোতা এবং প্রচার অভিযানে জোরকদমে নেমে পড়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকারের গলায় এখনও কাঁটা হয়ে বিঁধে রয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের অভ্যন্তরে হোক বা আন্তর্জাতিক মহল, বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন বৈধ হবে না, সেই দাবিও তুলছে। ভারত-সহ বিশ্বের বহু দেশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নির্বাচনে যুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে। আবার বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও একই দাবিতে মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে। তবে মুহাম্মদ ইউনূস আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে কার্যত অনড়। তাঁর পাশে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানের মতো কয়েকটি দেশ রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও এখন টলমল, ওয়াশিংটনের ওপরেও চাপ বাড়ছে আওয়ামী লীগকে নিয়ে। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচন আদৌ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে কিনা, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।












Discussion about this post