বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের তথ্য নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, গণ অভ্যুত্থানের ঠিক আগে ৩-৪ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টে ভারতের দালালদের সঙ্গে মিটিং করেছিলেন ডঃ আসিফ নজরুল। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের আইন উপদেষ্টা। কেন এই পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা হচ্ছে? আসলে মাঝেমধ্যেই বিতর্কে থাকা বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের ঠিক এক বছরের মাথায় এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক কার্যত দু-নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাইছেন। তাই মাঝেমধ্যেই তিনি জলে পড়ে যান, তবে অদৃশ্য এক জাদুবলে তিনি পারও পেয়ে যান। এবার তিনি বললেন, শেখ হাসিনার মতো অপরাধ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানও করেনি।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠান ছিল। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই অনুষ্ঠানেই বক্তৃতা দিতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যে অপরাধ বাংলাদেশে করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও মনে হয় এত জঘন্য অপরাধ করেনি।
আসিফ নজরুল আরও জানান, এমনভাবে বিচারের সাক্ষ্য-প্রমাণ রেখে যাওয়া হবে, ভবিষ্যতে কোনও সরকার চাইলেও বিচার থেকে সরতে পারবে না। আর আমি বিশ্বাস করি না, ভবিষ্যতে বিএনপি-জামায়াত যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা বিচারে গাফিলতি দেখাবে। তারা সবাই নির্যাতিত মানুষ। অর্থাৎ বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা ধরেই নিচ্ছেন আগামীদিনে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে পারেন বিএনপি-জামাত জোট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যে আসিফ নজরুল একসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে ভাষণ দিয়ে বেরাতেন। তাঁর বহু লেখায় মুজিবর রহমানের প্রশংসা ছিল। সেই আসিফ নজরুল তলে তলে হাসিনা বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। গত বছর ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় বাংলাদেশের সেনাপ্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও কিছু সংগঠনকে নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। সেখানে যেমন জামাতের আমীর ছিলেন, তেমনই বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে একমাত্র ডঃ আসিফ নজরুল ছিলেন। বলাই বাহুল্য জামাতের সুপারিশেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় দেখা গেল আসিফ নজরুলকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রথমদিকে তিনি নিজেকে মুহাম্মদ ইউনূসেরও উপরে বলে মনে করতেন। তারপরই মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের প্রকাশ্য অভিযোগ। আসিফ নজরুলকে ভারতের দালাল, ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট বলে দেগে দেওয়া নিয়েও প্রচুর জলঘোলা হয়। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমান করার চেষ্টাও করেন। কিন্তু কালক্রমে আসিফ নজরুল অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যান। আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাইছেন। একদিকে জামাত-এনসিপি অন্যদিকে বিএনপি। দুই শিবিরেরই কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে মরিয়া আসিফ নজরুল। যাতে আগামীদিনে যে বা যারাই ক্ষমতায় আসুক, তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে পারেন। আর এটা করতে গিয়েই তিনি গাড্ডায় পড়েছেন। ফলে ফের একবার নিজেকে প্রমান করতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে জঘন্য দাবি করে বসেন। যদিও এই মন্তব্যের জন্য পরে তাঁকেই ক্ষমা চাইতে হয়। একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনী, ও রাজাকার বাহিনী যে ধরণের হত্যালীলা সংগঠিত করেছিল পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে। তার সঙ্গে গত বছরের জুন-জুলাইয়ের হত্যাষজ্ঞের তুলনা করে এবং কোনও রকম তদন্ত ও বিচার ছাড়াই শেখ হাসিনাকে দায়ি করে আসিফ নজরুল নিজের মুখোশ আড়াল করতে চাইছেন। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভারতের দালাল অভিযোগও খণ্ডন করতে চাইলেন। কিন্তু তিনি যে নিজেকে প্রকৃত রাজাকার প্রমান করলেন, সেটা ভুলে গেলেন আসিফ নজরুল।












Discussion about this post