গোপালগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি চালানো ঘিরে দেশ এবং বিদেশে প্রবল আলোচনা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনায় নিশ্চুপ ছিল সেনাবাহিনী। এবার প্রায় দু সপ্তাহ পরে মুখ খুলল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। কেন সেনাবাহিনী গুলি করেছে, কেন তারা এনসিপিকে নিরাপত্তা দিয়েছে…মূলত সেগুলি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে সেনাবাহিনী। অনেকে বলছে, তবে কি চাপে পড়ে গেল সেনাবাহিনী? আসলে কিসের ইঙ্গিত দিলেন সেনাপ্রধান?
বাংলাদেশে অনেকগুলি ভয়াবহ ঘটনার মধ্যে একটি, সম্প্রতি গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া সেনাবাহিনীর গুলিতে ৫ জন মানুষের মৃত্যু। এই নিয়ে প্রথম দিকে সেনাবাহিনী কোনও বিবৃতি দেয়নি। সেটা ঘিরে দেশের অন্দরে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এইবার শেষমেষ সাংবাদিক বৈঠক করল সেনাবাহিনী। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন সেনাবাহিনী গুলি চালালো? উত্তরে তারা জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে আক্রমণ আসে। সেই কারণে বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়েছে। তবে এটাও বলা হয়েছে, আক্রমণকারীদের তরফে কোনও মরণঘাতী অস্ত্র আসেনি। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কেন পরিস্থিতি লাগাম টানতে পারল না সেনা সদস্যরা? এমনকি সেনাবাহিনীও নাকি মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি। তাহলে তো তদন্তের প্রয়োজন, যে ৫ জনের মৃত্যু ঘটলো, কাদের গুলিতে তারা নিহত হলেন!
গোপালগঞ্জের কর্মসূচিতে গিয়ে হামলা, সংঘর্ষের মধ্যে আটকে পড়া এনসিপি নেতাদের সাজয়া যানে করে যেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটা দু সপ্তাহ পর সেনাবাহিনী ব্যাখ্যা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনস পরিদফতরের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোপালগঞ্জে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল। যেখানে শুধুমাত্র ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়নি ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচির মধ্যেই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সংঘর্ষ হয়। দফায় দফায় বিক্ষোভ চলতে থাকে। দুই পক্ষই মার মুখি হয়ে ওঠে। চলে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ। তখনই দেখা যায়, এনসিপি নেতাদের সেনাবাহিনীর সাজোয়া যানে করে পালাতে। অর্থাৎ সেনাবাহিনী তাদের রক্ষা করে। এদিকে সেনাবাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়। আরো একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু ঘটে। এই পাঁচজনের মৃত্যুর দায় সেনাবাহিনীকে নিতে হবে বলে বিভিন্ন জায়গায় সমালোচনা তৈরি হয়। সাংবাদিক সম্মেলন করে স্পষ্ট করে দিল সেনাবাহিনী। কেন তাদের গুলি চালাতে হয়েছে, সেটাই জানিয়ে দিল তারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ১৬ই জুলাইয়ের গোপালগঞ্জের ঘটনার বেশ কিছু চিত্র। এমনকি ছাত্র নেতাদের ফেসবুক লাইভ করা ভিডিও থেকে দেখা গিয়েছে, সেনাবাহিনী পুরো রাস্তাটায় মুহু মুহু গুলি চালাতে চালাতে গিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠে যায়, যে ছাত্র নেতারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নক্কারজনক মন্তব্য করে আসছিল, সেই সেনাপ্রধানের বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিল। অর্থাৎ রাজনৈতিক দাবার চাল যেকোনো মুহূর্তে উল্টে যেতে পারে বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে এখন কাটাছেঁড়া চলছে রাজনৈতিক আঙিনায়। কেন মৃতদেহ গুলিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সৎকার করা হলো, কেন বলা হয়েছে সেনাবাহিনী তাদের চাপ সৃষ্টি করেছে? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর দেয়নি সেনাবাহিনী। এখন দেখার, এর রেশ কোথায় গিয়ে থামে।












Discussion about this post