শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই অনেকে বলছিলেন, তিনি অবসর নিয়ে পুত্র জয়কে দায়িত্ব দিয়ে চান। এখন তার সরকারের পতন ঘটেছে। এখন আরও বেশি করে অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনা আর রাজনীতিতে থাকবে না। কিন্তু সেটা একেবারে মনগড়া, সেটা প্রমাণিত। পৃথিবীর যে কোনও নির্বাসিত রাষ্ট্রনেতা যা করেন না, শেখ হাসিনা সেটাই করছেন। তিনি তার কাম ব্যাকের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন পুরোদমে। শেখ হাসিনা ভারতে বসে নজর রাখছেন, মহম্মদ ইউনূস রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে কিভাবে জনবিরোধী কাজ করছেন। আর সেটাই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছেন হাসিনা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা গুলিতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এমনকি আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। অগাষ্ট মাস আওয়ামী লীগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। শেখ হাসিনা খুব তাড়াতাড়ি দেশে ফিরছেন। কারণ, দেশে ফেরার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে তার। জানা গিয়েছে, ৩১ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বেশ কিছু নেতা। হঠাৎ ডাকা হয়েছিল এই বৈঠক। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াবীর বিক্রম, জাহাঙ্গীর কবির নানক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মোজাম্মেল হোসেন, বাহাউদ্দিন নাসিম, সুজিত রায় নন্দী। এই বৈঠকে আলোচিত হয়েছে, ইউনূস সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করতে নির্দিষ্ট রূপরেখা, এই সমস্ত কাজে কোন কোন নেতা কি কি দায়িত্ব পাবেন, সেগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকি কেরানীগঞ্জে জেলবন্দী নেতাদের একত্রিত করার উদ্দেশ্য কি সরকারের, সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এমনকি দলের নেতাদের সতর্ক করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকি এই নেতাদের যদি হত্যাকাণ্ড করা হয়, তবে ভারত সরকার কি ব্যবস্থা নেবে, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এমনকি নির্বাসিত সরকার গঠনে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নত স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন ইউনূস। আর যদি তিনি না করেন, তবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাতিল করে দেবে এই সরকারকে। এমনকি হতে পারে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা। সেখানে বাংলাদেশ সংবিধানের 9 A ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরি অবস্থা চালু করতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এখনো রয়েছেন। কারণ তিনি নিজে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। ফলে শেখ হাসিনাকে দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা চালু করা যেতেই পারে। ফলে পরিস্থিতি এখনো শেখ হাসিনার দিকেই অনুকূল বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই শেখ হাসিনা নির্বাসিত সরকার গঠনে গড়িমসি করছেন। আরও একটি কারণ, দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করা। অর্থাৎ শেখ হাসিনার প্রত্যাঘাত শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন দেখার, আগস্ট মাস আওয়ামী লীগের জন্য কি নিয়ে আসে।












Discussion about this post