বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে চাইছে বাংলাদেশী নাগরিকেরাই! আর এক্ষেত্রে ভারতের মধ্যে যে সমস্যাগুলি বিদ্যমান তার মধ্যে সবথেকে উপরের তালিকায় থাকবে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের সমস্যা। বাংলাদেশী নাগরিকদের এই অনুপ্রবেশ থাকা তেই ভারত সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন রাজ্যের ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভারত সরকার বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারীদের সরাতে যে পুশ বাকের প্রক্রিয়া চালু করেছে তা নিয়ে এমনিতেই চাপে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের সমস্যা শুধুমাত্রভারতের রাজনৈতিক সমস্যা নয় এটি এখন আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এই সমস্যাকে প্রতিহত করতে ভারত এবার যে সিদ্ধান্ত নিল তা কার্যত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
অনুপ্রবেশকারী আটকাতে বদ্ধপরিকর আসাম। আসামের ক্যাবিনেট এবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বলা হচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী নাগরিক এবং যে সমস্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি সেই জায়গার নাগরিকদের কাছে পিস্তল রাখার লাইসেন্স দেবেন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট করে বলেছেন যে আসামের নতুন অস্ত্র লাইসেন্স নীতি অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে প্রযোজ্য হবে না। তিনি বলেন, যদিও ঐতিহাসিকভাবে আসামের সাথে সীমান্ত বিরোধে জড়িত এই অঞ্চলগুলি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় না।
তিনি আরও বলেন,আসাম সর্বদা বলে আসছে যে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সমস্যাগুলি এমন বিষয় যা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে এবং করা উচিত। জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে আমরা এই অঞ্চলগুলিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে দেখি না। অতএব, অস্ত্র লাইসেন্স নীতি আসামের আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।”
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকেই আসাম কেবিনেট বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সীমান্তবর্তী ও অনুপ্রবেশের জন্য উপযুক্ত অঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য অস্ত্র লাইসেন্স প্রদানের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ্য করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।“ধুবড়ি, নগাঁও, মরিগাঁও, বরপেটা, দক্ষিণ সালমারা এবং মানকাচরের মতো জেলায়, গোয়ালপাড়া জেলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, এবং আদিবাসীরা সংখ্যালঘু ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে। এই আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে বা তাদের নিজস্ব গ্রামের ভেতর থেকে আক্রমণের শিকার হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আসাম প্রশাসন।
সূত্রের খবর, আসাম মন্ত্রিসভার নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে অস্ত্র লাইসেন্স এর নীতিটির লক্ষ্য হল বেআইনি হুমকি প্রতিরোধকারী হিসেবে কাজ করা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস উন্নত করা। এর ফলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারত সরকার এবার আরো কঠোর পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে চলেছে, এতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সরকার যে আরো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে তা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post