এক নাটকীয় ঘটনার মোড় ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ ও দলের নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম, অনলাইন উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেছে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার। তবে কি কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত? যা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা।
৯ মে রাতে সরকারের জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়,উপদেষ্টা পরিষদ দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব, জুলাই আন্দোলনে নেতা-কর্মীদের এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সাইবার-স্পেস সহ আওয়ামী লীগের সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই বিবৃতিতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ‘জুলাই ঘোষণা’ নামে পরিচিত একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপটি জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে এনসিপি থেকে, যার দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সন্ধ্যায় একটি আল্টিমেটাম জারি করেছিলেন। হাসনাত দাবি করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক ঘন্টার মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করুক, অন্যথায় গণ-সংগঠনের হুমকি দেওয়া হয়।
এরপরই গত শনিবার তৎপরতার সঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গুলি চূড়ান্ত হয়। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এর উল্লেখযোগ্য সংশোধনীও অনুমোদন করে, যার ফলে ট্রাইব্যুনাল কেবল নেতা কর্মীদেরই নয়, সমগ্র রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিরুদ্ধেও মামলা করতে পারবে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে “দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার” ব্যবস্থা হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে, তবুও হাসনাতের চূড়ান্ত শর্তের পর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই সরকারের দ্রুত প্রতিক্রিয়া, এনসিপি এবং তার ইসলামিক সংগঠন এখন রাষ্ট্রীয় নীতির উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অর্থাৎ ছাত্রদের রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দাবি মেনে নেওয়া এবং সংবিধান বিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপ করা কি প্রধান উপদেষ্টার একতিয়ারের মধ্যে পড়ে? উঠছে সেই প্রশ্ন।
অর্থাৎ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে বা চূড়ান্তভাবে নির্বাচন কমিশন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের এই নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে আওয়ামী লীগের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে না।
উল্লেখ্য, গত বছর জুলাই এ ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ দলের অধিকাংশ নেতাই ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশের মধ্যে কারাগারে বন্দী হয়ে আছেন শীর্ষনেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপি ছাড়া দলটির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েরও বহু নেতা।
জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের একটি অংশ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি বারবার সামনে এনেছে।
তবে সে দেশে প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আগে এ ধরনের নিষিদ্ধের দাবিকে সরাসরি সমর্থন না করে এ বিষয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। তবে বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেছেন, বিলম্ব হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট বিএনপি।
তবে অন্তর্ভুক্তি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করেই আওয়ামী লীগ যথোচিতভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাবে’। একই সাথে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘জনগণ কঠোর জবাব দেবে’ বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ইতিমধ্যে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানের পক্ষে গিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ভারতের নিশানয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। একেবারে সে দেশের বর্তমান সরকারের তরফে এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর ভারত যে চুপ করে বসে থাকবে না তা কারোরই অজানা নয়। দীর্ঘদিনের বন্ধু বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতের আশ্রযয়েই রয়েছেন। হঠাৎ সেখানে ভারত এবং হাসিনার শক্তি একসঙ্গে কাজ করেছে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তি সরকারকে চাপে ফেলা হবে সেটা নিয়েও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।












Discussion about this post