কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগ পার্টি অফিস করেছে। যে খবরের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ জুড়ে। কলকাতার ব্যস্ততম একটি ভবনে আওয়ামী লীগের অফিস হওয়াতে সেখান থেকেই তারা কাজ করছে। সেরকম তথ্য উঠে আসছে বিবিসি গণমাধ্যম থেকে। তবে কি আওয়ামীলীগ প্রবাসী সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? যেটা বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল? উঠে আসছে এমন নানা প্রশ্ন।
কলকাতা থেকেই কি আওয়ামী লীগ দেশে পরিচালনা করবে? এর কি আদৌ বাস্তবতা হয়েছে? এদিকে তথ্য উঠে আসছে, যেখান থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আওয়ামী লীগের কোন ব্যানার ও বঙ্গবন্ধুর ছবি বা শেখ হাসিনার ছবি কোন কিছুই নেই বলে জানা যাচ্ছে । তারা নাকি কাউকে বুঝতেই চান না, যে এটা আওয়ামী লীগের অফিস। অর্থাৎ তারা গোপনে কাজ করতে চাইছে। তবে গোপন থাকলো না। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে তা উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, বিবিসির কলকাতার প্রতিনিধি অমিতাভ ভট্টশালী। সেখানে তারা বলছে, কলকাতা লগোয়া উপনগরীতে শয়ে শয়ে কমপ্লেক্স রয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক একটি ভবনে আওয়ামী লীগ অফিস তৈরি করে দল পরিচালনা করছে। কারণ সেখানে বেশ কিছু জন যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। যাদেরকে আগে দেখা যেত না সেখানে। এই নবাগতদের অনেকেই চেনেন না। তবে তারা এক বছর আগেও বাংলাদেশের ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। তারা আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলির শীর্ষস্তরের নেতা। তারা যে বাণিজ্যিক ভবনটিতে যাতায়াত করছেন বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানে দলীয় দপ্তর খুলেছে আওয়ামী লীগ। এই দলীয় অফিস টি নতুন। এর আগে ২০২৪ সালে ৫ ই আগস্ট সরকার পতনের পর তারা চলে আসেন। বড় বৈঠক বাইরে করলেও ছোট বৈঠকগুলি এই ভবনটিতে করছেন। তবে অবনতিতে এখনো পর্যন্ত কোন ছবি ব্যানার ব্যবহার করা হয়নি। কারণ তারা সেটা নাকি গোপন রাখতে চায়। গত বছর যে সমস্ত নেতারা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তারাই সেখানে যাতায়াত করছেন। শুধু তাই নয়, পুলিস কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তারাও যাতায়াত করছেন। এমনকি এই দলীয় অফিসটি মাত্র পাঁচ ছয় মাস আগেই নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
বাংলাদেশের বহু মানুষ প্রশ্ন করছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল স্তরের নেতারা মার খাচ্ছেন বাংলাদেশে, আর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ভারতে পালিয়ে গিয়ে ভালো রয়েছেন। এটা কেন? যদিও এক আওয়ামীলীগ নেতা নাকি বলেন, ৭১ এর সময় ভারতে থেকে প্রবাসী সরকার গঠন করে, স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়েছিল। সেটা না করলে কি আজকে বাংলাদেশ থাকতো? দেশ থেকে পরিচালনা করতে গেলে নেতাদের জীবন সংকটে পড়তো। যদিও তিনি বলেছেন, তিনি ৭১ এর সঙ্গে ২০২৪ এর তুলনা করছেন না। তবে বাস্তবতা তুলে ধরছেন।
এর আগেও শুনে গিয়েছিল, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি বেশকিছু নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে করেছেনম। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের যায় কার্যক্রম হচ্ছে, সবটাই নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে। তবে প্রশ্ন উঠেই যায়, ভারতে বসে আদৌ কি কোনও সুবিধা করতে পারবে আওয়ামীলীগ? তবে কি নিষিদ্ধ দলগুলিকে একজোট করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য কোনও পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা? কারণ আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ বাংলাদেশে। তারা ভালো করেই জানে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ফলে আওয়ামীলীগ নেত্রী খেলা কোন দিকে ঘোরাচ্ছেন, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।।












Discussion about this post