বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যারা নিয়ন্ত্রণ করছে অর্থাৎ ছাত্রনেতাদের মধ্যে সংঘাত দিনে দিনে চরমে উঠছে। বিশেষত ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজার উড়ে গিয়েছিলেন বেশ কিছু ছাত্রনেতা। তারপর থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছেন। এদিকে ওই ছাত্রনেতাদের উপর সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। ফলে প্রশ্ন অনেক। কোন পক্ষ রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করছে, কোন পক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে? এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যায়নি। তবে কি ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে? অন্যদিকে এনসিপির দলীয় ফোরাম থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে ওই পাঁচ ছাত্রনেতাকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে যে উত্তর দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর মতো নেতারা, সেটা হাস্যকর। এমনকি পরস্পর বিরোধী। দলের তরফে বলা হয়েছিল, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কিংবা সদস্য সচিবের সামনে এসে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তার উত্তরে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেছেন, ৫ই অগাষ্ট তার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না।দল থেকেও তাকে এই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ৪ঠা আগস্ট হাসনাত আব্দুল্লাহ তার অফিসের একজন সহকারীর ফোন দিয়ে আমাকে জানায় যে, সে তার স্কুল বন্ধুদের নিয়ে দুদিনের জন্য ঘুরতে যাবে। আমি বলি বিষয়টি দলের আহ্বায়ক কে জানাতে হবে। তিনি বলেন, আমিও জানাবো। অর্থাৎ তারা বলছে, দলের আহবায়ক নাহিদ ইসলাম জানেন। কেন তারা গিয়েছিলেন? সেই উত্তরে তারা বলেন, এই ঘুরতে যাওয়ার পিছনে ছিল রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা এবং একান্তে চিন্তা ভাবনা করা। যেটা অনেকে হাস্যকর বলছেন। পাশাপাশি যদি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জেনেই থাকেন, তবে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ কেন দেওয়া হল? তবে কি সবটাই আইওয়াশ?
এদিকে সারজিস আলম এবং হাসনাতরা বলেছিলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পদযাত্রা ছিল। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তারা ঘুরতে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ দলের মধ্যে পরস্পর বিরোধী কথা উঠে আসছে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থা গুলি তাদের উপর ক্রমাগত নজর রাখছে। গোয়েন্দা নজরদারিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, তাসনিম জারা এবং খালিদ সাইফুল্লাহএর হোটেল পরিবর্তন। বলা হচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ করেই কক্সবাজারে যান ৫ জন ছাত্রনেতা এবং উপদেষ্টারা। হঠাৎ করেই তাদের হোটেল পরিবর্তন। তারা হোটেল থেকে প্রস্থান করেন। আকস্মিক হোটেল পরিবর্তন নজর এড়ায়নি প্রশাসন এবং সরকারের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গত দুই দিন ধরে নেতাদের প্রতিটি গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
বলা হয়, শুধু নজরদারিই নয়, গোপন বৈঠকের গুজব, বিদেশি কূটনীতিকের নাম ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য, আর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ- সব মিলে সফরটিকে ঘিরে উঠেছে এক ধোঁয়াশা ও কৌতূহল।
বিমান থেকে নামার পর তারা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার না করে সাধারণ যাত্রীদের গেট দিয়ে বের হন তারা। এবং সরাসরি যান ইনানীর বিলাসবহুল সী পার্ল রিসোর্টে। সেখানেই নাকি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে হোটেল সূত্রে খবর, এনসিপি নেতাদের সঙ্গে কোনও বিদেশীদের বৈঠক হয়নি। তবে এই বিষয়ে ছাত্রনেতাদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী মন্তব্য বিতর্কে জন্ম দিয়েছে।












Discussion about this post