আমেরিকার ষড়যন্ত্রেই কি শেখ হাসিনার পতন? যেটা বারবার দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী? যদি এটা সত্যি হয়ে থাকে, তবে কি চুপ থাকবে ভারত? ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।
মাত্র ছয় মাস ক্ষমতায় বসেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনৈতিক ক্ষেত্র বদলে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে কাজ জো বাইডেন শুরু করেছিলেন। সেই কাজটি মোটামুটি ট্রাম্প করে ফেলেছেন। এবং ওয়াকিবহাল মহল বলছে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জয়ের ক্ষেত্রে হল বাংলাদেশ। ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে খানিকটা বাংলাদেশের আধিপত্য তৈরি করেছিলেন বাইডেন। কিন্তু ট্রাম্প সেটা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই মুহূর্তে আমেরিকার কাছে বাংলাদেশ হয়ে গেছে উপনিবেশ। আর সেটা স্বীকার করতেই হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কোটা বিরোধী আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছক কষে ছিল, সেটাতে শেখ হাসিনার অনেক আগেই লাগামটা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি বিশেষ আমল দেননি বলেই তাদের আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বাড়তে থাকে। যদিও খবর, শেখ হাসিনাকে সাবধান করেছিল ভারত। কিন্তু সেই সমস্তকে এড়িয়ে চীন সফরে যান শেখ হাসিনা। চীনও জানতো, ঠিক পতনের কাজ কতটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে।
যখন হাসিনা সরকারের পতন ঘটল, ঠিক তখনই জাতিসংঘকে দিয়ে রাখাইন রাজ্যে করিডোর করার কথা বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, আমেরিকার দীর্ঘদিনের নজর বাংলাদেশের বন্দর। এমনকি সেন্ট মাটির রয়েছে সেই তালিকায়।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বারবার দাবি করেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপর উপর নজর ছিল আমেরিকার। সেটা তিনি দেননি বলেই, পতন ঘটেছে। কিন্তু তারপরও শেখ হাসিনা আপস করেননি। তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন সেই কারণেই। এমনকি মুখে আমেরিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে কথা বললেও, দেখা যায় বাংলাদেশের পক্ষেই কাজ করছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, অপারেশন সিঁদুরের সময় আমেরিকা পাকিস্তানকে সাহায্য করেছিল। এমনকি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনে বলে অতিরিক্ত চাপিয়েছে ট্রাম্প। আরো যেহেতু উঠতি শক্তিশালী রাষ্ট্র, তাই তাকে দামানোর জন্য বাংলাদেশকে কাজে লাগাতে চাইছে আমেরিকা। যাতে সামরিক ঘাঁটি করে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং ভারতকে চোখে রাখতে পারে। আর তাতে সাই দিচ্ছে বাংলাদেশ।
যদিও এগুলি কোনোটিই করা সম্ভব হতো না যদি শেখ হাসিনার সরকার থাকতো। আর সেই কারণেই হাসিনা সরকারকে খটিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের এক সেনাকর্তা তথা সেনাবাহিনী মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তান বসে থাকবে না। ভারতের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে আক্রমণ চালাবে। ভারতের পূর্ব সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ভারতকে আক্রমণ করতে তারা বাংলাদেশকে ব্যবহার করবে এমনটাই বলতে চাইল। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, অপারেশন সিঁদুরের মত অপারেশন পূর্ব দিক হতেও সময় লাগবে না ভারতের। আর সেটা বোঝা উচিত আমেরিকা এবং বাংলাদেশের তথা পাকিস্তানেরও। তবে আমেরিকার ক্ষেত্রে উপনিবেশিক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post