নো বোট, নো ভোট! এমনই ডাকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নেত্রী হাসিনার নির্দেশ মানলেন না নেতাকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বহু প্রতিক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। বিভিন্ন জায়গায় যেমন বিক্ষিপ্ত অশান্তির ছবি লক্ষ্য করা গেল, ঠিক একইভাবে ভোটকেন্দ্রে অশান্তির ছবিও লক্ষ্য করা গেল। তবে শেখ হাসিনার যে বার্তা ছিল, সেটা মানলেন না তাঁর দলের নেতা কর্মীরা।
আজকের বাংলাদেশের ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। ভোটের দিন সকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে যায় তৃণমূল স্তরে। যেটা এর আগেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে। “নো বোট, নো ভোট।” দলীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন জেলায় দেখা যায়, আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী সেই নির্দেশ অমান্য করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। কেউ কেউ সরাসরি ভোট দেন, আবার অনেকেই নিজেদের সমর্থকদের ভোটদানে উৎসাহিত করেন। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত ও তৃণমূল বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট ফাটল প্রকাশ্যে আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি দলের ক্ষেত্রে এমন প্রকাশ্য অমান্যতা বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতার বক্তব্য, ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। শেষ মুহূর্তে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত সাধারণ কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।” আবার কেউ কেউ মনে করছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও ব্যক্তিগত প্রভাব বজায় রাখার স্বার্থেই অনেক নেতা ভোটে সক্রিয় থেকেছেন।
জানা যাচ্ছে, ৩রা ফেব্রুয়ারি শিবচর পুরসভা খান বাড়িতে মাদারীপুর ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী উত্থান বৈঠকে হাজির হন আওয়ামী লীগের ২০ জন নেতাকর্মী। সেখানে তারা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগ যখন নেই, তারা ভোট দেবে না বলেও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ১২ ই ফেব্রুয়ারি ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের এই সময় একটি কঠিন সময় চলছে। এছাড়া তাদের টিকে থাকার একটি বিষয় তো রয়েছেই। এদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে “দলের ভাঙনের ইঙ্গিত” বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মানা না হলে সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেনি। সব মিলিয়ে, “নো বোট, নো ভোট” স্লোগান ঘিরে আজকের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর দলীয় অবস্থান কী হয় এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব কতটা গভীর হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নেত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়ের উপর কোনও বক্তব্য রাখেন কিনা, সেই দিকেও নজর রয়েছে প্রত্যেকের।












Discussion about this post