কবি লিখেছিলেন, নামে কি এসে যায়! অর্থাৎ নাম নয়, কারও পরিচয় তাঁর কর্ম দিয়েই হয়। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কিনা সেটা সময় বলবে। তবে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না। কারণ, তাঁদের নিবন্ধন বাতিল করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। তাঁদের নৌকা চিহ্নও আর নেই। ফলে ভোট হলে আওয়ামী প্রার্থী হিসেবে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। এটা এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়ে আছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করতে নির্বাচন কমিশনকে বুধবার চিঠি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সে অনুযায়ী কাজও শুরু করে দিয়েছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশের বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এথন ভোট। ইতিমধ্যেই বিএনপি মাঠে নেমে পড়েছে। আবার অন্যান্য রাজনৈতিক দলও কোমর বাঁধতে শুরু করেছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট নিয়ে কিছুটা হলেও অসন্তুষ্ট জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি করবে, এত সহজে কি তাঁরা ময়দান ছেড়ে দেবে? এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।
আওয়ামী লীগ ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এহং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের জেরে তাঁরা ক্ষমতাচ্যুত হয়। আর ২০২৫ সালের ১২ মে তাঁদের নিবন্ধন স্থগিত করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং আরও পরে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ শাসন করেছে। এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। হাসিনা দেশান্তরি হয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর মতোই আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-নেত্রী হয় বিদেশে এবং না হল জেলে পচছেন। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহন খুব কঠিন। যদি না পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়। তবে জানা যাচ্ছে, জননেত্রী শেখ হাসিনা হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি ভারতে বসেই তাঁর ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। যদি শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নিবন্ধন ফেরত না পায়, তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা নিষেঝাজ্ঞা না তোলা হয় তাহলে তিনি বিকল্প পথ অবলম্বন করতে পারেন। জানা যাচ্ছে, অন্য নামে, অন্য প্রতীকেই বাংলাদেশের ভোটে অংশ নিতে পারে আওয়ামী নেতা-কর্মীরা। এর জন্য গোপন পরিকল্পনা চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাঁদের ভোট দিতে পারবেন। এতে বাঁধা দেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।
যদিও এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সবচেয়ে কোনঠাসা রাজনৈতিক দল হল আওয়ামী লীগ। তাঁদের বহু নেতা, কর্মী, সমর্থক জেলবন্দি। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের ঘটনার পর আট থেকে দশ হাজার আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি। এর আগেও বহু কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ভুয়ো মামলা দিয়ে জেলবন্দি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগ আশাবাদী। কারণ, বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল তাঁরাই ছিল। এখনও কোটি কোটি সমর্থক তাঁদের রয়েছে। সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁদের সংগঠনও মজবুত। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, ভয় ও সন্ত্রাসের কারণে বহু কর্মী সমর্থক লুকিয়ে আছেন। কিন্তু যদি তাঁরা জানতে পারেন, অন্য নামে অন্য প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন, তাহলে খেলা ঘুরে যেতে পারে। শেখ হাসিনার মাস্টারপ্ল্যানে এটা রয়েছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য উপায়ে সেই কাজটাই করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সরকারি কর্মী, পুলিশ ও আমলা মহলে এখনও আওয়ামী লীগের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ না হোক, অন্য নামে তাঁরা ভোটে লড়ে একটা অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করতেই পারে।












Discussion about this post