ভারত স্পষ্ট ভাষায় বারবার জানিয়েছে যে “অপারেশন সিঁদুর” বন্ধ হয়নি, আপাতত স্থগিত করা আছে। মাস খানেক আগেই অপারেশন সিঁদুরের তেজ উপলব্ধি করেছে পাকিস্তান। তাই তাঁরা ভিতরে ভিতরে গুটিয়ে আছে। কিন্তু তা বলে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইসলামবাদ। তাঁরা চাইছে ভারতের বিরুদ্ধে সেকেন্ড ফ্রন্ট খুলতে। অর্থাৎ ভারতের ওপর প্রান্ত ব্যবহার করে ভারতে আক্রমণ শানাতে। ভারতের পশ্চিম প্রান্তের ফ্রন্ট এমনিতেই খোলা আছে। কাশ্মীর থেকে শুরু করে পঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাট সীমান্তে হাই এলার্টে রয়েছে। ভারত এই বিশাল সীমান্ত দুর্ভাদ্য বর্মে ঢেকে দিয়েছে। সমরসজ্জাও তৈরি। কিন্তু পাকিস্তানের ধারণা যদি একসাথে পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ভারতে আক্রমণ চালানো যায়, তাহলে বেকায়দায় ফেলা যাবে ভারতকে। এখানে পূর্ব প্রান্ত বলতে বাংলাদেশ বুঝতে হবে।
মুহাম্মদ ইউনূস সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঢাকা নয়া দিল্লিকে দূরে ঠেলে ইসলামাবাদের দিকে বেশি করে ঝুঁকছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ফলে যে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ আজ পুনরায় পাকিস্তানমুখী হয়েছে। যা তাঁরা স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও করেনি, সেটা বিগত এক বছর ধরে করছে। এটা ভারতের নজর এরায়নি। এর মধ্যেই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপ প্রধানমন্ত্রী ঈশাক দার ঢাকা সফরে আসছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করতেই তাঁর ঢাকা সফর বলে জানানো হয়েছে। এর আগে বেশ কয়েকবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তারা ও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কর্তারা বাংলাদেশে যাতায়াত করেছে। বাংলাদেশ সেনারও কয়েকজন কর্তা ইসলামবাদ ও রওয়ালপিন্ডি গিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক বেশ মাখো মাখো বলা যায়। কিন্তু এই অবহে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ডিজি আইএসপিআর এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। দুদিন আগেই তিনি বলেন, পাকিস্তান প্রয়োজনে ভারতের পূর্ব প্রান্ত দিয়েও আক্রমণ শানাতে পারে। অর্থাৎ তিনি যে বাংলাদেশের ভুখন্ড ব্যবহার করার কথা বলছেন তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, পাক সেনাকর্তার এই মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ঢাকা। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যায়, পাক সেনার এই দাবিতে সমর্থন রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান কিছু করার চেষ্টা করলেই ভারত কড়া জবাব দেবে। ফলে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি পাকিস্তান পূর্ব ফ্রন্ট ওপেন করে, তাহলে বাংলাদেশও যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
ভারত যে সেরকম কিছু আন্দাজ করছে তাঁর প্রমানও আছে। সূত্রের খবর, শতাধিক ব্রহ্মস ও ড্রোন কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা। ইতিমধ্যে অস্ত্র কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬৭ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জানা যাচ্ছে মাঝারি-পাল্লার দীর্ঘ সহনশীলতা সম্পন্ন ৮৭টি সশস্ত্র ড্রোন কেনা হবে। এর জন্য খরচ হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে নতুন ১১০টি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বলাই বাহুল্য ভারতের পূর্ব দিক ও উত্তর পূর্বের সীমান্ত এলাকায় এগুলি মোতায়েন করা হবে। অর্থাৎ পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতে কোনও প্রকার সামরিক গতিবিধি চালানোর চেষ্টা করে, যা জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করে, তাহলে ভারত তৎক্ষণাৎ জবাব দেবে। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত তাঁর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গোটা বিশ্বকেই দেখিয়েছে। এবার বাংলাদেশ দেখবে।












Discussion about this post