আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীরই একজন মেজরের বিরুদ্ধে। তাঁকে যেমন আটক করা হয়েছে, সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকেও। মেজর এখন সেনা হেফাজতে, আর তাঁর স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে। তাঁদের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা তদন্ত করছে বাংলাদেশ সেনাব্হিনী ও গোয়েন্দা পুলিশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মেজর সাদিকুল হক ওরফে মেজর সাদিক কি এমন দোষ করল যে তাঁকে আটক করতে হল? বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কে বি কনভেনশন হলে ‘ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠকের’ মামলা তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি নাকি আওয়ামী লীগের কর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন ছাড়াও আরও কয়েকজন ছিলেন। অর্থাৎ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আসলে বাংলাদেশের অবস্থা এখন এমন হয়েছে বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘাঁ, আর আওয়ামী লীগ ছুঁলে ছাপ্পান্ন ঘাঁ।
বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শেখ হাসিনা ভারতে বসে, ভারতের গুপ্তচর সংস্থা র-এর যোগসাজসে এক ভয়ানক পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের আরও দাবি, শেখ হাসিনার গোপন পরিকল্পনা হল বাংলাদেশে একটি সমান্তরাল “ছায়া প্রশাসন” তৈরি করা। পাশাপাশি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বাছাই করে নানা ধরণের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ গোয়েন্দা কর্তাদের বক্তব্য, ঢাকার কে বি কনভেনশন হলে ২০০-২৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে গুজব ছড়ানো, রাজনৈতিক অপপ্রচারের কৌশল, সশস্ত্র প্রতিরোধ গঠনের মৌলিক শিক্ষা, গেরিলা প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। গোয়েন্দারা নাকি এও জানতে পেরেছেন, গোপন কোড নম্বর ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল। সিগন্যাল অ্যাপে ওডিবি নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে কোড ভিত্তিক নাম দিয়ে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো বলে দাবি গোয়েন্দাদের। অর্থাৎ, যে কায়দায় জঙ্গিগোষ্ঠী বা গুপ্তচর এজেন্সিগুলি কাজ করে, সেভাবেই আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। আর তা দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীরই মেজর সাদিকের মতো তরুণ কর্মকর্তারা।
এবার প্রশ্ন হল, মেজর সাদিক আসলে কে, তাঁর পরিচয়ই বা কি। মেজর সাদিকুল হক ওরফে মেজর সাদেক কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। জানা যায়, এই মেজর শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ট। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সাদেক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। জানা যায়, তাঁর শ্বশুর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গির হারুন ছিলেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি। তিনি শেখ হাসিনার প্রিয় পাত্র ছিলেন। মেজর সাদেকের স্ত্রী সুমাইয়া ছিলেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। সুমাইয়ার ঘনিষ্টতা ছিল হাসিনা পুত্র জয়ের সঙ্গেও। ফলে মেজর সাদেক সহজেই হাসিনার জালে জরিয়েছিলেন বলেই দাবি বাংলাদেশ গোয়ন্দা পুলিশের।
বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের এই পরিকল্পনার বিষয়টি কলকাতায় বসে সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাকে সহযোগিতায় সেখানে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান-সহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সরকার উৎখাতের এই পরিকল্পনায় কৌশলগত সহযোগিতা করছেন দিল্লিতে অবস্থান করা পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান পলাতক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা “র” এই কাজে শেখ হাসিনাকে সাহায্য করতো, তাহলে এত সহজে এটা ফাঁস হতো না। কারণ, ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অনেকটাই উন্নত। ফলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির এ হেন দাবি, দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।












Discussion about this post