ডিসেম্বর মাস প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে যেমন আবেগের মাস, সমান আবেগের বাংলাদেশবাসীর কাছেও। এই ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন বাংলাদেশে। নতুন রাষ্ট্রের জন্মের পিছনে ভারতীয় সেনা যে কী ভূমিকা নিয়েছিল, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সময় ১৯৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধ। গত বছর তদারকি সরকার সেই অনু্ষ্ঠান নমো নমো করে পালন করেছে। সেটা হওয়ারই কথা। এই সরকার তো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গতবছর শুধুমাত্র বিজয় মেলা করে দায় সেড়েছে। এবার ১৬ ডিসেম্বর তারা কোনও কর্মসূচি নেয় কি না, সেটা দেখার। তবে আওয়ামী লীগ ১৬ ডিসেম্বরের জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, তদারকি সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তারা এবার আরও বড়ো করে মুক্তির দিনটি পালন করবে। এটা হবে সরকারের জন্য তাদের তরফে পাওয়ার প্লে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেটা কী করে সম্ভব হবে। কারণ, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলনেত্রী হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। তাঁর আমলের বহু মন্ত্রীর কোনও খোঁজ নেই। হাসিনাকে সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে দেখা গেলেও তাঁর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গত ১৬ মাসে একদিনের জন্য প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। শোনা যাচ্ছে তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। কিন্তু সরকারিভাবে সেই খবরে সিলমোহর পরেনি। যাওয়া যাক প্রতিবেদনের মূল বিষয়ে।
হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার মূল চক্রী যে আমেরিকা এবং সরকার পাল্টে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি হয়েছিল কাতারে, সেটা এখন ওপেন সিক্রেট। দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়ার ছক তৈরি হয় সেখানে। তাই, খলিলুর রহমান বেশ কয়েকবার কাতার গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন মার্কিন শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর এ দফাতেও তিনি কাতার গিয়ে বেশ কয়েকজন মার্কিন শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। তদারকি সরকারকে বাঁচাতে কার্যত তিনি তাদের হাত-পা ধরেছিলেন। জানা গিয়েছে, খলিলুরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে গত জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানে সময় যে অক্সিজেন মাস্ক তাদের মুখে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই মাস্ক খুলে নেওয়া হয়েছে। আর আমেরিকার তরফ থেকে তাদের কোনও সাহায্য করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, খলিলুরকে খালি হাতে সেখান থেকে ফিরতে হয়েছে। তিনি বুঝে যান যে কোনও সময়ে তাদের ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। আর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের দিন আওয়ামী লীগের তরফ থেকে তাদের একটা প্রবল ঝাঁকুনি দেওয়া হবে।
কোনও কোনও গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের ওপর সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে আসেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে। তিনি তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে যেমন বৈঠক করেন, বৈঠক করেন বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রতিটি রাজনৈতিকদলের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষকর্তার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বাংলাদেশের নির্বাচন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এমনকী সব রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সেটাও তদারকি সরকার প্রধানকে নিশ্চিত করার কথা বলেন। ফলে হাওয়া এখন প্রবলভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে। সেই হাওয়ার সামনে পড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবেন ইউনূস বাহিনী। বঙ্গোপসাগরে যে শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।












Discussion about this post