বাংলাদেশে এই মুহূর্তে চলছে নানা আলোচনা। তারমধ্যে অন্যতম আলোচনা তারেক রহমানের দেশে ফেরা। বলা হচ্ছে, যারা বাংলাদেশে নির্বাচন চায় না, তারা তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দিতে চান না। এমন মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা। যিনি বিএনপির ঘোষিত ২৩৭ টি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধির লিস্টে নেই। সেই রুমিন ফারহানা কেন এই মন্তব্য করলেন? কোন রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করতে চাইলেন? আসলে কারা তারেক রহমানের দেশে ফেরার কাঁটা?
তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দিতে চায় না বাংলাদেশেরই রাজনৈতিক শক্তি। এমন মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, যারা নির্বাচন চায় না, তারা তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে চান না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে কি তিনি জামাত বা এনসিপিকে ইঙ্গিত করার চেষ্টা করলেন? কারণ জামাত বা এনসিপি নির্বাচন না হলে সবথেকে বেশি লাভবান হচ্ছে। তার কারণ তারা ক্ষমতায় না থেকেও ক্ষমতার স্বাদ পাচ্ছেন। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকলে এই দুটি রাজনৈতিক দলের লাভ বেশি। তিনি বলেন, তারিখ রহমানকে শুধু বিএনপি’র প্রধান বা কান্ডারী হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বাংলাদেশের প্রগ্রেসিভ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ মধ্যপন্থের ধারাটি টিকে থাকবে কিনা তা অনেকাংশে নির্ভর করছে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন কিনা তার উপরে। তাই তার দেশে ফেরা এখন আর শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক গতিপথ এবং জনগণের ভাগ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, যেকোনো নাগরীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব। তারেক রহমান যদি মনে করেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
তারেক রহমান যখন তার দেশে ফেরার বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন, তখন প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছিলেন, তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে কোনও আইনি জটিলতা আমরা দেখছি না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, তারেক রহমান ফিরতে চাইলে যদি ট্রাভেল পাস দরকার হয়, পরের দিনই ব্যবস্থা করা যাবে। যখন সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, কোনও বাধা নেই তখন বাধা টা কোথায়? সেই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। এরমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশানা করলেন রুমিন ফারহানা।
এর আগেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রিকা খবর করেছিল, যে সরকারের মধ্যেই একপক্ষ চায় নির্বাচন না হোক। আবার আর এক পক্ষ চায়, নির্বাচন হোক। ফলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দু পক্ষ এমনভাবে কাজ করছে, যেখানে সরকার দোলাচলে পড়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে এই বিষয়টিকে আরও উস্কে দিলেন রুমিন ফারহানা। তিনি যে জামাত-ই ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেটা বলাই বাহুল্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ভিতর থেকে বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post