১৯৭১ সালে ৩রা ডিসেম্বর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত….১৩ দিনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পাশে না থাকলে তারা নতুন দেশ পেত না। প্রথম দিন থেকে ভারত নানাভাবে সাহায্য করেছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বলা বাহুল্য শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর মুক্তিযুদ্ধকে ভুলতে চাইছে ইউনূসের সরকার। শুধু তাই নয়, সবকিছুতেই ভারতকে দোষারোপ করছে তারা। বন্ধু ভারত এখন ইউনূসের চরম শত্রু। ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলছে ইউনূসের কমিশন। শোনা যাচ্ছে, নয়া দিল্লিকে এই নিয়ে চিঠিও দিতে পারে ঢাকা। অনেকে বলছেন, এরপর ভারত যদি বড় কোনও পদক্ষেপ নেয়, তাতে কি করবে বাংলাদেশ? কারণ বাংলাদেশ ভারতের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সামান্য কড়াকড়ি করতেই বিপদে পড়েছে তারা। এখন যদি সত্যিই বড় সিদ্ধান্ত নেয়, তবে চাপে পরবে অন্তবর্তীকালীন সরকার, সেটা স্পষ্ট।
জানা যায়, ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ ১১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর রবিবার মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় তদন্ত কমিশন। তাতে বলা হয়, এতে বিডিআর হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। আর তাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রীন সিগন্যাল ছিল। তেমনভাবেই পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও পাকাপোক্ত করতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। যাতে জড়িত ছিল আওয়ামী লীগ। এমনকি শেখ ফজলে নূর তাপস ছিলেন প্রধান সমন্বয়ক। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে নাকি ভারতকেও দোষী করার চেষ্টা চলছে। যা নিয়ে নয়া দিল্লিকে চিঠি দিতে পারে ঢাকা। তবে ২০০৯ সালে কি হয়েছিল? জানা যায়, ২০০৯ সালে পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেল্স-এর সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, একসময় তা বাংলাদেশ রাইফেল্স বা বিডিআর নামে পরিচিত ছিল। ২০০৯ সালের ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশের মোট ৫৭ জন সেনা আধিকারিক। এর মধ্যে ছিলেন বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। বাংলাদেশ সেনা আধিকারিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৪ জন। মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেন পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করার জন্য। এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আলম ফজলুর রহমান। বিগত ১১ মাস তদন্ত চালিয়ে গত রবিবার রিপোর্ট জমা দেয় ওই কমিশন। তাতেই দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। এমনকি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার মধ্যে ৬৭ জনের কোনও হিসাব নেই। তাঁরা কোন দিক দিয়ে এসেছিলেন, কোথা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন তা জানা যায়নি। অর্থাৎ ভারতের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ভারতকে এই বিষয়ে মুহাম্মদ ইুনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার চিঠি দিয়ে থাকে, তবে ভারত কড়া পদক্ষেপ করবে, সেটা বলাই বাহুল্য। আর না হলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এমনভাবে প্রমাণ দিতে হবে, যাতে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হয়। ভারত খতিয়ে দেখবে। তবে যে পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ, তাতে ধোপে টিকবে না তাদের দাবি। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, সত্যিই শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post