সোমবার থেকেই নতুন উদ্যমে পথ নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ। নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী নেতা-কর্মী-সমর্থকরা একজোট হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু করে দিয়েছেন মিছিল, মিটিং ও প্রতিবাদ সভা। চলবে আরও তিনদিন। তারপরই আগামী ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউন। মজার বিষয়, আওয়ামী লীগ কার্যত দিন পনেরো আগেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করে দিয়েছিল। সেই মতো দলীয় নেতা-কর্মীরা গোপনে তাঁদের সংগঠন ও প্রচারণা চালিয়ে গিয়েছে। ওই দিন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে না বেরিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে শেখ হাসিনার দল। সাধারণ মানুষকে যাতে একত্রিত করে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে একটা জোরালো প্রতিবাদের রাস্তায় নামাতে পারেন, সেই চেষ্টাও করে চলেছেন আওয়ামী নেতারা। এই আবহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির বাইরে একাধিক গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে আওয়ামী লীগ। তাই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে নতুন উদ্যমে গ্রেফতার অভিযান শুরু করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে এক বৈঠকে সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রবিবার রাতে নিরাপত্তা এজেন্সি এবং গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয়, ব্যারাকে ফিরে যাওয়া সেনাদের আবার পূর্ণমাত্রায় মাঠে নামানো হবে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে লকডাউন কর্মসূচি সফল করতে দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় জড়ো হচ্ছেন। এমন তথ্য পেয়েই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে দিয়েছেন সোমবার সকাল থেকে। ইতিমধ্যেই ১০০ থেকে ১৫০ জন মতো আওয়ামী কর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তালিকায় প্রাক্তন পৌর মেয়র-সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীও রয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানা গিয়েছে, ১০-১২ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং তার আশেপাশের এলাকায় স্লোগান সম্বলিত এক লক্ষ গ্যাস বেলুন ওড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরা। ধৃত আওয়ামী নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে পুলিশ। তারপরই গ্রেফতারি অভিযানে জোর দিয়েছে ইউনূস সরকার। যদিও এতকিছুর পরও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে লকডাউন কর্মসূচির সমর্থনে প্রতিদিন ঝটিকা মিছিল করছে দলের নেতা-কর্মীরা। আবার কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছেন। এরমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে কোনও সেনাকর্মীকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার শপথ নিতে শোনা যাচ্ছে। সেনার পোশাক ও জুতো পরিহিত ওই যুবক নিজেকে একজন সেনাসদস্য বলেই দাবি করছেন ওই ভিডিওতে।
ভাইরাল ভিডিও —-
এরমধ্যেই জানা যাচ্ছে, প্রায় ৯ হাজার সদস্যের বেসরকারি মিলিশিয়ার কয়েক হাজার যুবককে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিয়ে ১০-১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নির্দেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এই গোপন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা বাংলাদেশ পুলিশের গোপনীয় ৯ পৃষ্ঠার “স্পেশাল সিকিউরিটি প্ল্যান” নথি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। একজন যুগ্ম কমিশনারের স্বাক্ষর করা ওই নথি অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর ৯টি সেক্টরে মোট ৬,৮২৯ জন ‘পুলিশ’ কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে শত শত যুবক—যারা আসিফ মাহমুদের নির্দেশে গঠিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অক্সিলারি ফোর্সের সদস্য। তাঁরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্ট্যান্ডার্ড ইউনিফর্ম পরে রায়ট গিয়ার, রেইনকোট ও অস্ত্র-সহ মাঠে থাকবে। নথিতে বলা হয়েছে, ৪৯টি থানা এলাকাকে ৯টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে প্লাটুন গঠন করা হবে। প্রতি প্লাটুনের নেতৃত্বে থাকবে পুলিশ কর্মকর্তা, কিন্তু সদস্যদের বড় অংশ হবে এই বেসরকারি মিলিশিয়া। বোঝাই যাচ্ছে, কেন আসিফ মাহমুদ যুবকদের অস্ত্রপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। এখন দেখার, আওয়ামী লীগ এত বাধা উপেক্ষা করে তাঁদের কর্মসূচি সফল করতে পারে কিনা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post