বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল জারি হওয়ার পরদিনই সে দেশের এক রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনা। এই হামলার পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে দাবি উঠতে শুরু করে এর পিছনে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের উস্কানি রয়েছে। কেউ কেউ এককাঠি উপরে উঠে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-কে দায়ি করে বসেন। রবিবার সকালেই বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা তথা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনায় জড়িতেরা যাতে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় না নিতে পারে, সে বিষয়ে সহযোগিতা করুক ভারত। পাশাপাশি প্রণয় ভার্মাকে বলা হয়, ভারতে বসে হাসিনা যে ভাবে তাঁর সমর্থকদের নানা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন, তা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আসন্ন নির্বাচনের আগে এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের। তাই এ বিষয়ে ভারত সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক। যদিও এর পর রবিবার রাতেই ভারত পাল্টা বিবৃতি জারি করে কড়া জবাব দেয় ঢাকাকে। বিবৃতিতে বাংলাদেশের এসব অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান’ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে-ভারতের ভূখণ্ড কখনও বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ভারতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের সপক্ষে আমরা আমাদের অবস্থান অব্যাহতভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছি। সবমিলিয়ে হাসিনা, হাদির উপর হামলার ঘটনায় নতুন করে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হতে চলেছে।
কিন্তু এর মধ্যেই একটি খবর আলাদা করে নজর কাড়ছে। সেটা হল, বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবীদের ট্রলারে হামলা চালাল বাংলাদেশ নৌসেনার জাহাজ। জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে বাংলাদেশ নৌসেনার জাহাজের ধাক্কায় ‘এফবি পারমিতা দশ’ নামে একটি ভারতীয় ট্রলার ড়ুবে যায়। এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। তাঁদের বাড়ি কাকদ্বীপে। জানা গিয়েছে, ট্রলারটি ১৩ ডিসেম্বর নামখানা থেকে মাছ ধরতে সমুদ্রে রওনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি নৌসেনার হামলার শিকার হয় সেটি। উদ্ধার হওয়া মৎসজীবীদের দাবি, রাতের অন্ধকারে আলো নিবিয়ে বাংলাদেশের নৌসেনার জাহাজ ভারতীয় জলসীমায় ঢুকেছিল, তাতেই ধাক্কা লাগে। বাংলাদেশের নৌসেনা কেন এই পদক্ষেপ করল, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ। নিখোঁজ পাঁচ মৎস্যজীবীর সন্ধানে ইতিমধ্যেই ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী গভীর সমুদ্রে তল্লাশি চালাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কারোর সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে চিন্তা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সাথে দহরম মহরম করে ভারতের সাথে একটা যুদ্ধ বা সংঘর্ষ বাঁধাতে চাইছেন। বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন, আর সেই নির্বাচন বানচাল হলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ইউনূসেরই। তিনি আরও কিছু সময় বাংলাদেশের ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন। তাই ক্রমাগত ভারতকে উস্কানি দিয়ে চলেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত পাঁচবার ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করেছে ঢাকা। পাল্টা ভারত এরকম কিছু করেনি এখনও। এবার রাতের অন্ধকারে ভারতের জলসীমায় ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশের নৌসেনার জাহাজ। যা সরাসরি উস্কানি বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার ভারত কোনও বার্তা দেয় কিনা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post