বাংলাদেশে গুম, খুন-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। যা নিয়ে বাংলাদেশের সেনার অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ওই সেনাকর্তাদের বিচার কোথায় হবে, সেনা আদালতে নাকি আইটিসি-র মতো সিভিল কোর্টে? এই নিয়েই চলছিল বিতর্ক। তবে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ১৫ সেনাকর্তার বিচার অবশেষে সিভিল কোর্ট অর্থাৎ ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালেই শুরু হল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এত জন সেনা সদস্যকে কোন ফৌজদারি আদালতে পেশ করা নজির নেই। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কোনও জওয়ান বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের তদন্ত এবং বিচার সেনা আদালতেই হয় সাধারণত। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে একেবারেই ভিন্ন সেটা বিগত একবছরের ঘটনাবলি বহুবার প্রমান করেছে। ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে কোনও কিছুই আইন মেনে হয় না। এবারও তাই, সেনাবাহিনীর অসন্তোষকে পাশ কাটিয়ে অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালেই হাজির করানো হল।
দিন সাতেক আগে এই সেনা সদস্যদের হেফাজতে নিয়েছিল ঢাকার সেনা সদর। গত শনিবার সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো.হাকিমুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, কেউ চার্জশিটভুক্ত আসামি হলেই সে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত নয়। তিনি এই দাবিও করেছিলেন যে, এখনও গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পায়নি সেনাবাহিনী। এরপরই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এবার দেখা গেল একটা ম্যানেজ করার ব্যবস্থা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অভিযুক্ত কর্মরত সেনাকর্তাদের সেনানিবাসের মধ্যেই একটি অফিসার্স মেসকে সাব জেল বা অস্থায়ী কারাগারে পরিণত করে তাঁদের সেখানেই রাখা হয়। এরপর ওই কর্মকর্তাদের একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে আদালতে হাজির করানো হয়। এরপর বিচারপতিরা অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁদের সেনানিবাসের সেই সাব জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিজন ভ্যান শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হলে ওই সাব জেলও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এবং সুসজ্জিত। অর্থাৎ, ধরে নেওয়াই যায়, জেলখানা নয়-বাড়ির মতোই ব্যবস্থাপনা সেখানে। যদিও ট্রাইব্যুনাল বলছে, আইন অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলে তাকে পুলিশের মাধ্যমেই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এ ক্ষেত্রে কিন্তু সেই নিয়মের অন্যথা হল। তবে এই অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের বিচার কোন প্রক্রিয়ায় হবে সেটা নিয়ে এখনও ধন্ধ রয়েছে। আইনজীবীদের একাংশের দাবি, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিচার নিয়ে যদি কোনও সংকট তৈরি হয় তাহলে সেনাবাহিনীর লিগ্যাল টিমের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ট্রাইব্যুনাল। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযোগ যখন সঠিক মনে হয় তখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, অভিযোগপত্র দেওয়া মানে তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হতে পারে।
কিন্তু সেনাকর্তাদের সিভিল কোর্টের বিচারের আনা নিয়ে দুটি গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। প্রথমটি হল, তাঁদের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনলো কে, এবং কি উদ্দেশ্যে। দ্বিতীয়টি হল, আন্দোলন দমন করার জন্য সেনাবাহিনীর গুলি চালানো যদি মানবতাবিরোধী অপরাধ হয় কোন আইনে? যেখানে কোনও সহিংস আন্দোলন দমন করতে বাহিনীকে সর্বোচ্চ অবস্থানই নিতে হয়। বিশ্বের বহু দেশেই এই কাজটাই করে থাকে সে দেশের সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের হাসিনাপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট। তাই তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনা হল। আর এটা করা হয়েছে, অন্যান্য সেনা আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিতেই। এ ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে, হয় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের মত রয়েছে। না হয় তাঁকে প্যাঁচে ফেলতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ইউনূস বাহিনী। যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের বিতারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে বসেই তিনি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিচারের জন্য তৈরি ট্রাইবুনালে তাঁর এবং সেনার সদস্যদের বিচার করছে ইউনূস সরকার। তিনি আরও বলেছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর এমন হেনস্তা দেখেও সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের নীরবতা বিস্ময়কর। যেভাবে সেনাদের নিশানা করা হচ্ছে তাতে একদিন ওয়াকার কেও টার্গেট করা হবে না কে বলতে পারেন! ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, একেবারে হক কথাটাই বলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর পরের টার্গেট অবশ্যই জেনারেল ওয়াকার। আর পরিস্থিতি সে দিকেই যাচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post