বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ২২ জুন। কিন্তু তার আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করেছে বাংলাদেশেরই কট্টরপন্থী ইসলামিক কয়েকটি দল। বিশেষ করে জামায়তে ইসলামি বাংলাদেশের নাম উঠে আসছে এই আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা একাধিক আলোচনা বা গুজবে এক সেনাকর্তার নাম উঠে আসছে, যাকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে চাইছে জামাত শিবির। আসন্ন নির্বাচনের আগেই ওই সেনাকর্তাকে বাংলাদেশ সেনার মাথায় বসাতে মরিয়া জামাত, এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। আসলে জামাত শিবির বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এখনই চায় না, তাঁরা এই নির্বাচন পিছিয়ে দিতে মরিয়া। আর এর জন্য নাকি একাধিক পরিকল্পনাও আছে জামায়তে ইসলামির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের মতো একাধিক দল বলছে, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নেই’ বাংলাদেশে। এই নিয়ে তাঁরা জোরদার প্রচারও করছে। ঠিক এই আবহেই বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেল। সেটা হল, একসাথে সাবেক ও কর্মরত মিলিয়ে ২৫ জন সেনাকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা। তাও আবার গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই সেনাকর্তাদের। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশ দাবি করছেন, এটা জামাতেরই পরিকল্পনা। শেখ হাসিনার আমলে পদন্নোতি হওয়া এবং আওয়ামী ঘনিষ্ট কয়েকজন সেনাকর্তাকেই টার্গেট করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটা অনেক বড় চক্রান্ত। একদিকে একসাথে দুই ডজনের বেশি সেনাকর্তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা এবং তাঁদের সিভিল কোর্টে বিচার করা, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। যা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকেই আঘাত করল।
যদিও সেনাবাহিনীর বক্তব্য একটু ভিন্ন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং একজন অবসরকালীন ছুটিতে থাকা সেনকর্তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বাংলাদেশ সেনার মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাস্টিসের পক্ষে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতার হওয়া সেনাকর্তাদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেল, ছয়জন ব্রিগেডিয়ার এবং একাধিক কর্নেল ও লেফটান্যান্ট পদমর্যাদার সেনা আধিকারিক রয়েছেন এই তালিকায়। এই ঘটনা কার্যত মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতির, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফতে বাংলাদেশের মতো ইসলামিক কট্টরপন্থী দলগুলি একদিকে যেমন দাবি করছে বাংলাদেশে এখনও নির্বাচনের মতো পরিবেশ নেই, তেমনই তাঁরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে যে তাঁরা আসলে কী চাইছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সমস্ত দাবির আড়ালে তাঁরা বাংলাদেশের নির্বাচনকেই প্রলম্বিত করতে চাইছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি এটাকে জামাতের মাস্টারপ্ল্যান হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, একটি ইসলামী দল পিআর-এর জন্য তুমুল আন্দোলনের কথা বলেছে। এটা একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান, যা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না।
আগামী ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময় হতে পারে বলে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপি একমত হয়েছে। কিন্তু জামাত ও এনসিপির বক্তব্য, শুধু বিএনপির সাথে আলোচনা করে এ ধরনের ঘোষণা করা হল কেন। তারপর থেকেই চলছে নানা চক্রান্ত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আওয়ামী লীগ বিহীন ফাঁকা মাঠে গোল দিতে মরিয়া বিএনপি। অপরদিকে জামাত ইতিমধ্যেই তাঁদের একটা সাংগঠনিক কাঠামো বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাম্প্রতিক কালে জামায়তের ইসলামিক ছাত্রশিবির পরপর চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় ছিনিয়ে সেটাই প্রমানিত করেছে। ফলে এই মুহূ্র্তে বিএনপির থেকে অনেকটাই এগিয়ে জামাত। যারা এতদিন বিএনপির থেকে আসেনের ভাগ চাইতো, এবার তাঁদের কাছেই আসতে হবে খালেদা জিয়ার দলকে। কিন্তু এখনও জামাতকে কিছুটা সময় দিতে হবে তাঁদের সংগঠনকে আরও মজবুত করার জন্য। তাই সেনাবাহিনীকে ভেঙে টুকরো করে সেনাপ্রধানকে সরিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে মরিয়া জামাত।












Discussion about this post