বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে অরাজকতা দেখা দিচ্ছে। সরকার, প্রশাসন তেমন পদক্ষেপ করছে না, বা করতে পারছে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সবাই তাকিয়ে রয়েছে সেনাবাহিনীর দিকে। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন, সেনাবাহিনীর তো দেশ রক্ষা করার কাজ, তাহলে তারা দেশের অভ্যন্তরের দায় কেন নেবে? চলুন সেটারই আলোচনা করা যাক। এর পাশাপাশি আশঙ্কা করা হচ্ছে, যখন সেনাবাহিনীর দিকে ডাই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তখন আরও ভয়ংকর রূপে দেখা যাবে। কাঠগড়ায় মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন।
প্রায় এক বছর ধরে সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। কিন্তু দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক হচ্ছে না। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, দেশের আইনশৃংখলার নিয়ন্ত্রণ করা কি সেনাবাহিনীর কাজ? এক কথায় উত্তর দিতে গেলে বলা হবে, না। দেশের অভ্যন্তরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কোনও দায় নেই। পুলিশের সেই দায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের কি অবস্থা, সেটা অজানা নয় দেশের জনগণের। এদিকে সেনাবাহিনী একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা বিগত কয়েকদিন ধরে কিভাবে কাজ করছে! কিন্তু যেভাবে বিশৃঙ্খল ঘটছে গোটা দেশে তার তুলনায় অপ্রতুল। সারা বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর সোয়া ২ লক্ষ সদস্য। সেনাবাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যার থেকেও বেশি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, পুলিশ বাহিনী দ্বিধাগ্রস্ত। কিন্তু কেন? আসলে যা ছবি সামনে আসছে, তাতে এটাই বলতে হয়, পুলিশ পরিস্থিতির শিকার। তাদের মনোবল এখনো ফেরেনি। যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্য প্রায় দেড় লক্ষ্য বা তার হয়তো একটু বেশি। কিন্তু প্রত্যেকে তো সেনানিবাস ছেড়ে মাঠে কাজ করছে না। সেনাপ্রধানের দেওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২৩ হাজার সৈন্য একটা সময়ে ডিউটিতে থাকে। তাদের ডিউটি শেষ হয়ে গেলে তারা ফিরে যায়। আবার সমপরিমাণ সৈন্য মাঠে ফেরে। এই ২৩ যাবার সৈন্য বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা দিচ্ছে। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কি তারা যথেষ্ট? উঠছে প্রশ্ন। আর সেখান থেকেই সেনাবাহিনীর ওপর দায়ী চাপাচ্ছে অনেকে।
এরকম একটা পরিস্থিতিতে, নির্বাচন কি করে করা সম্ভব হবে? কারণ এই সরকার তো কোনও কাজই করতে পারছে না। যদিও সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, তারা প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের তরফে তেমন নির্দেশনা আসলে তারা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করবে।
তবে এটা ঠিক, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে মানুষ যতটুকু সুরক্ষিত, রয়েছে, সেটুকু থাকতে পারবে না। এমনকি সেনাবাহিনীকে দেশের সুরক্ষার জন্য যে দায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তাকে সেনাবাহিনীর একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দেওয়া। আর সেটা অবশ্যই হতে হবে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে।
এছাড়াও দেশে যে মব কালচার চলছে, তাতে প্রত্যেকে সমান চোখে দেখা উচিত। সেটা এনসিপি হতে পারে বা বিএনপি। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এরপর প্রত্যেকে নির্বাচনে এগিয়ে আসা উচিত। এছাড়াও আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
আসলে অনেকে বলছেন, সেনাবাহিনী চাইলেও দেশকে বিশৃঙ্খল মুক্ত করতে পারছে না। এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ৫ই অগাষ্ট বলেছিলেন, দেশের দায়িত্ব তিনি নিজের কাধে নিলেন। সে কারণেই প্রত্যেকটি মানুষ সেনাবাহিনীর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তবে তাদের নেতৃত্বে যদি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবেই মানুষের আত্মা ফিরবে বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে। এখন দেখার সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বা তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের সুদিন কবে আসে।












Discussion about this post