বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবর রহমানের মাজার রয়েছে গোপালগঞ্জে। বাংলাদেশের এই জেলা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। সেই গোপালগঞ্জ আজ উত্তপ্ত। গত বুধবার থেকে এককাট্টা গোপালগঞ্জ কার্যত রুখে দাঁড়িয়েছিল একদল নব্য নেতা হওয়া কট্টর ইসলামিক মনোভাবের ছাত্রদের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা আগেই ঘোষণা করেছিল তাঁরা কোনও ভাবেই বঙ্গবন্ধুর মাজার বা স্মৃতিসৌধ ধ্বংস হতে দেবেন না, প্রয়োজনে প্রাণ দিয়ে বাঁচাবেন বঙ্গবন্ধুর শেষ স্মৃতি। হ্যাঁ, প্রাণ তাঁরা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এমন তাড়া দিয়েছেন এনসিপি নামক জঙ্গি জিহাদি ভাবধারার রাজনৈতিক দলের নেতাদের যে তাঁরা একটি সেনা ট্যাঙ্কের ভিতর লুকিয়ে পালায়। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে একজন সেনা অফিসার তার সৈন্যদের রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দিচ্ছেন। অজ্ঞাতপরিচয় ওই সেনা অফিসার “দাঁড়িয়ে সরাসরি গুলি করতে” নির্দেশ দিলেন এরপরই কিছু দূরে জড়ো হওয়া জনতার দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি চালাতে দেখা যায় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের। প্রাণ গিয়েছে পাঁচ জনের। অন্য একটি ভিডিও প্রমাণে আরও দেখা গেছে যে, গোপালগঞ্জের এক যুবক দীপ্ত সাহাকে। যাকে কমপক্ষে ছয় থেকে সাতজন সৈন্য রাস্তায় টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। সে হিন্দু না মুসলিম সেটা জানার জন্য ওই যুবকের প্যান্ট টেনে নামানো হচ্ছে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ভারতের জম্মু কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার সময়। তবে পার্থক্য হল, পহেলগাঁওয়ে হামলা করেছিল জঙ্গিবাহিনী আর বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে এই কাজটা করেছে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। প্রশ্ন উঠছে, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিল?
সূত্রের খবর অনুযায়ী গোপালগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫তম পদাতিক ডিভিশনের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। এরমধ্যে অন্যতম যশোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫তম পদাতিক ব্রিগেডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বা জিওসি স্বয়ং স্থানীয় বাসিন্দা এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপর গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন বলেই জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ওই একই ইউনিটের দুইজন ব্রিগেডিয়ার, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং দুই মেজরের নামও উঠে আসছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গোপালগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস কেউই কোনও দুঃখ প্রকাশ করেননি।
তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে জারি করা এক বিবৃতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাতে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গোপালগঞ্জের গুলি চালনার ঘটনা মানবতাবিরোধী শুধু নয়, বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধীও। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৯৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোন কোন শর্তে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যাবে না এবং এই ধরনের পদক্ষেপের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য কোনও যুক্তিও গ্রহণ করা যাবে না। গোপালগঞ্জের গুলিবর্ষণ সেই ধারা লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫তম পদাতিক ডিভিশনের সৈন্যরা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়ে কমপক্ষে পাঁচজনকে হত্যা করার অনেক পরে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর একটি দুর্বল বিবৃতি জারি করে মুখ রক্ষার চেষ্টা করেছে। আর সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের নীরবতা আরও রহস্য তৈরি করছে। কারণ, বুধবারের পরবর্তী সময়ের অভিযোগগুলি আরও মারাত্মক। গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের দাবি, মৃতদের দেহের ময়নাতদন্ত না করেই জোর করে কবরস্থ করতে বাধ্য করেছে সেনাবাহিনী। এমনকি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া, জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জওয়ানরা হুমকি দিচ্ছেন, আওয়ামী লীগ করা যাবে না, নাহলে শাস্তি পেতে হবে। এর দায় একদিন নিতেই হবে জেনারেল ওয়াকারকে, হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও গোপালগঞ্জবাসীদের একাংশ। তাঁরা আরও বড় প্রতিরোধের জন্য তৈরি আছেন।










Discussion about this post