বাংলাদেশে গোপালগঞ্জের ঘটনায় সেনাবাহিনী প্রবলভাবে বিতর্কে জড়িয়েছে। কেন সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালালো সেনাবাহিনী? সেটা ঘিরেই প্রবলভাবে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। জানা যায়, এখনও পর্যন্ত সরকারি মতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সেনাবাহিনীর গুলিতে। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা আরও বেশি। আর এই ঘটনায় চাপে পড়েছে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যদিও সেনাবাহিনীর তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই বিবৃতিতে দেশের জনগণের মধ্যে দাগ কাটেনি। এদিকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদিকে ৮ বার ফোন করেছেন বলে খবর। কিন্তু কথা হয়নি। অন্যদিকে এতে আসরে নেমেছেন খলিলুর রহমান। তিনি ফোন করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে,গোপালগঞ্জে ঘটনা ঘটিয়ে প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশের সরকার এবং সেনাবাহিনী। এদিকে ভারতের তরফে নাকি করা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অজিত দোভাল অর্থাৎ ভারত বিশেষ আমল দেয়নি। এমনকি তিনি স্পষ্ট করে দেন, শেখ হাসিনাকে যেভাবে সরানো হয়েছিল, সেটা যেমন ভারত জানে, ঠিক একইভাবে ভারত জানে কি উদ্দেশ্যে ঘটছে। এমনটাই খবর কূটনৈতিক সূত্রে।
আসলে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের ঘটনা অনেকগুলো প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে। গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছিলেন, নিরীহ ছাত্রদের ওপর গুলি চালাবো না। এমনকি সেনাপ্রধান বেশি কিছু সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানোর কালচার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেই। তাহলে সামান্য বিক্ষোভ ঠেকাতে কেন সেনাবাহিনীর সাজোয়া গাড়ি নিয়ে যেতে হল? কেন গুলি চালাতে হল? গোপালগঞ্জের ঘটনায় চূড়ান্ত মানব অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গোপালগঞ্জের ঘটনা নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র কে প্রশ্ন করা হলে তিনি খুব সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা আমাদের অঞ্চলের সব ঘটনা প্রবাহ ঘনিষ্টভাবে অনুসরণ করি এবং যা ঘটছে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনে আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হলেও অনেকে বলছেন তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত যে এই ঘটনা ভালো চোখে দেখছে না, সেটা পরিষ্কার।
সেনাবাহিনীর নিরীহ সাধারণ মানুষকে উপর গুলি চালিয়েছে তা নয়, তাদের তাদের দেহ ময়নাতদন্ত না করেই সৎকার করেছে। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, সেই দেহগুলি সৎকার করতে চাপ দিয়েছে সেনাবাহিনী। কিন্তু কেন? কি উদ্দেশ্যে? দেশ চালাতে গেলে জনসমর্থন সবার আগে প্রয়োজন। কিন্তু সে দেশের সরকার বা সেনাবাহিনী যেভাবে দেশটিকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে বেশিদিন জনসমর্থন আর টিকে থাকবে না। আজ যেমন ফুসছে গোপালগঞ্জ, একইভাবে গোটা বাংলাদেশ একসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করবে। তখন সামলাতে পারবেন তো মহম্মদ ইউনূস এবং তার বর্তমান দোসর জেনারেল ওয়াকার?











Discussion about this post