পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে পাশে নিয়ে একটি নতুন অক্ষ তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছিল চিন। ভারতকে চাপে ফেলতেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চেয়েছিল বেজিং। এমনটাই উঠে এসেছিল বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। কিন্তু খেলা ঘুরতে শুরু করে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বেজিং সফরে যাওয়ার পর থেকে। এবারে চিন সফর করছেন ভরতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আর এই কারণেই এখন প্রবল আতঙ্কিত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
বেজিংয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মূলত শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও-র বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে চিনে গিয়েছেন জয়শঙ্কর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যতায় ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারতের বিদেশমন্ত্রী চিনে গেলেন। নানা দিক থেকে জয়শঙ্করের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতিসাধন। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয়ো সংগঠন নেটোর বড় ট্যারিফ হুমকির মুখে ভারত-চিন জোট নিয়ে আলোচনা। সেই সঙ্গে, মার্কিন শুল্কযুদ্ধে চাপে থাকা চিনকে বুঝিয়ে ভারতের স্বার্থ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারত ও চিনের নতুন সমীকরণ হতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।
তবে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চিন জোট পুনরুজ্জীবন প্রসঙ্গ।অতীতে এই শক্তিশালী জোট পশ্চিমা দেশগুলির মাথাব্যাথার কারণ ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে ভারত ও চিনের সম্পর্কে অবনতি হওয়ায় এই ত্রিদেশীয় জোট ভেঙে যায়। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সংবাদ পোর্টাল ইজভেস্তিয়া রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুডেনকোর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে মস্কো আরআইসি ফর্ম্যাট পুনরায় চালু হওয়ার প্রত্যাশা করে। এবং এই বিষয়ে বেজিং এবং নয়াদিল্লির সাথে আলোচনা চলছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী বেজিং সফরকালে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর পর পরই আরআইসি জোট নিয়ে মস্কোর বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারত এই জোট ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট করেনি। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আরআইসি হল একটি পরামর্শমূলক ফর্ম্যাট, যেখানে তিনটি দেশ তাদের আগ্রহের বৈশ্বিক বিষয় এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এই মুহূর্তে আরআইসি ফর্ম্যাটের কোনও বৈঠকে সম্মতি জানানো হয়নি। এর সময়সূচী নিয়ে কোনও আলোচনা চলছে না। তবে তিনি এও বলেন, এটি এমন একটি বিষয় যা তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক পদ্ধতিতে সমাধান করা হবে।
অর্থাৎ, ভারত, চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে পুরোনো বন্ধুত্ব জোট ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি। কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার জোট কোয়াডের সদস্য। যাকে বেজিং তাঁদের উত্থানকে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি জোট হিসেবেই দেখে। তাই রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে আরআইসি ফর্ম্যাট পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বেজিংয়ের।
কূটনৈতিক মহলের আরেকটি অংশের মতে, আরআইসি পুনরিজ্জীবিত হলে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়ো দেশগুলির জোট নেটো প্রবল চাপে পড়ে যাবে। যেখানে তাঁরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলো ভারত ও চিন যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনে তাহলে ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ দেওয়া হবে। যদিও চিন ও ভারত কেউই ওই হুমকির সামনে মাথা নত করেনি, বরং নেটো কে পাল্টা তোপ দেগেছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, বিশ্বের তিন মহা শক্তিধর দেশ যদি দক্ষিণ এশিয়ায় জোট বাঁধে, এবং নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাড়িয়ে দেয়। তাহলে মার্কিন সাম্রাজ্য বিপদের মুখে পড়ে যাবে। আর এটাই লক্ষ্য রাশিয়ার। তাই চিন ও ভারতের সঙ্গে মধ্যস্ততা করছে মস্কো। এই মুহূর্তে প্রবল চাপে থাকা চিন তাই রাজি হয়েছে আরআইসি ফিরিয়ে আনতে। ফলে তাঁরা আমেরিকার কোলে গিয়ে বসা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে আর আগ্রহ দেখাবে না। বরং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতেই বেশি আগ্রহী হবে।












Discussion about this post