ঝড় ওঠার আগে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ আচমকাই বদলে যায়। আবহাওয়া হয়ে ওঠে গুমোট। উত্তরপাড়া রীতিমতো থমথম করছে। সেনাবাহিনীর একসঙ্গে এতজনকে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বস্তুত আগুন নিয়ে খেলা করেছেন। বাহিনী এখন দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে পাকিস্তানপন্থী জেনারেলরা। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ পন্থীরা। যে আগুন নিয়ে তিনি খেলায় মেতে উঠেছিলেন, সেই আগুনে এখন তিনিই জ্বলছেন। পরিস্থিতি এতটাই স্পর্শকাতর যে যে কোনও সময় অঘটন ঘটতে পারে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ৫৬ জন জেনারেল সম্প্রতি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ৫৫ জন (সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়ে) জেনারেল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে। সেই প্রশ্নগুলি হল সেনা অফিসারদের বিরদ্ধে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? এর পিছনে কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে? সেনা বিদ্রোহের কতটা সম্ভাবনা রয়েছে? সেনার মধ্যে যারা পাকিস্তানপন্থী, তারা গোপনে কী নীলনকশা তৈরি করেছেন?
বাংলাদেশে যা ঘটেছে, সেটা বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্তে সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেছে কি না, কেউ বলতে পারছে না। দেশজুড়ে এখন একটাই আলোচনা। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি কৌশলী প্রতিক্রিয়া দেখছে। যদিও বাকিরা আপাতত স্পিকটি নট ভূমিকায় থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, আগামী কয়েকদিন এই ঘটনার গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হবে। একজন প্রাক্তন সেনাকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনা জনসমক্ষে যে ভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তাতে সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। অনেকে বলছেন, গত বছর ৫ অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অভিহীত থাকায় এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাহিনীর কোনও ক্ষতি হবে না। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, বাহিনীর একাংশ ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সরকারের পাশে রয়েছে। আরও একটা প্রশ্ন উঠে সেনাকর্তাদের এভাবে বিচারের আওতায় আনার জন্য কি সরকার পড়ে যেতে পারে?
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার। প্রশ্ন উঠছে, আচমকাই কেন এতজন সেনাকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা হল। এই সিদ্ধান্তের পিছনে আরও একটি কৌশল রয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড-য়ের আদলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গঠন করার একটা চেষ্টা চলছে। এর উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে একটি জঙ্গিবাদী বাহিনীতে পরিণত করা এবং আফগানিস্তানের মতো একটি তালিবানি রাষ্ট্র নির্মাণ করা। এর পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক একটি চক্র। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান এবং চিনের মদত রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে ইউনূসের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আগের থেকে অনেকে বেড়েছে। সে দেশের এক শীর্ষস্থানীয় কর্তার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। তার পর থেকেই শুরু হয় সন্দেহ। জানুয়ারিতে এসেছিল আইএসআই-য়ের এক প্রতিনিধিদল। সম্প্রতি বাংলাদেশের ডিজিএফআই পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনা বর্তমানে দুইভাগে বিভক্ত। ওয়াকারের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী, দ্বিতীয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফইজুর রহমান। এই গোষ্ঠী পাকিস্তানপন্থী। তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তাদের লক্ষ্য সেনাপ্রধান ওয়াকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশশাসনের রিমোট কন্ট্রোল হাতে নেওয়া। কিন্তু মূল প্রশ্ন হল, সেনাপ্রধান ওয়াকারের নেতৃত্বে কি কোনওভাবে বাহিনীতে বিদ্রোহ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওয়াকারের এখন যা ক্ষমতা, তার প্রেক্ষিতে এরকম সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












Discussion about this post