শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। বলা হচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে চলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আসলে আচমকা কেন কোনও আগাম খবর না দিয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হল, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রের খবর, তিন বাহিনীর প্রধানের তরফেই নাকি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চাওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। একটি মহলের খবর, জুলাই সনদ স্বাক্ষর এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে বিবাদ তৈরি হয়েছে, তাতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই নাকি তিন বাহিনীর প্রধানকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আদৌ কি তাই? দাবি করা হচ্ছে, সেনাকর্তারাই নাকি এই ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এটা মানতে রাজি নয় রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের দাবি, পূর্ব প্রান্তে ভারতের সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে আসতেই তিন বাহিনীর প্রধানকে তলব করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যাচ্ছে, ভারত, ক্রমাগত পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তৃর্ণ এলাকায় বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরে সেনা সমাহার বৃদ্ধি করছে। এখানেই শেষ নয়, চলতি নভেম্বর মাস থেকে আগামী জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত তিন দফায় উত্তর-পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগরে নোটাম জারি করেছে ভারত। এই সময়কালে বিরাট আকারে যৌথ সামরিক মহড়া করবে ভারতের তিন বাহিনী। এটাতেই আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান-সহ তিন বাহিনীর প্রধানকে জরুরি তলব করেন মুহাম্মদ ইউনূস।
অন্যদিকে আরেকটি একটি সূত্রের খবর, বাংলাদেশে সাধারণ যুবকদের সামরিক বা আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার যে প্রকল্প ঘোষণা করেছে ইউনূস সরকার, সেটা নিয়ে সেনাকর্তারা উদ্বিগ্ন। জেনারেল ওয়াকার-সহ অন্যান্য সেনাকর্তারা মনে করছেন এইভাবে সাধারণ মানুষকে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যদিও এটাই চাইছেন ইউনূস ও তাঁর পৃষ্ঠপোশকরা। কিন্তু বিষয়টি যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সেটা বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ। তাই তাঁরা আপত্তি তুলছেন। ইউনূস সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই প্রশিক্ষণের উদ্যোক্তাদের অন্যতম বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। ওই উপদেষ্টা নিজেও প্রকাশ্যে ফেসবুকে এই তথ্য জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ, এই তথ্য যে নির্ভূল সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
শনিবার সন্ধ্যায় যখন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে মূলত বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে ভারতকে ঠেকাতে অপারগ সেটাও জানিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ সেনার তিনবাহিনীর প্রধান। আরও একটি খবর, এই বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। সেটা হল, জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান রবিবার রাতে সৌদি আরবের পবিত্রতম শহর মক্কায় তাঁর ওমরাহ পালনের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের পাঁচ দিনের সরকারি সফর বাতিল করেছিলেন জেনারেল ওয়াকার। এবার ২ নভেম্বর ঢাকা থেকে জেদ্দায় যাওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন, সেটাও বাতিল করলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা মহলকে ভ্রু কুঁচকে দিয়েছে, যদিও এই আকস্মিক বাতিলের কারণ সম্পর্কে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে মনে করা হচ্ছে, ভারতের আসন্ন সামরিক মহড়ার কারণেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আতঙ্কে রয়েছে। যার প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post