ভারতের শক্তিশালী নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। যাকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড বলা হয়। যাকে জেমস বন্ডের অবয়ব মনে করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট থেকে ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তার উপদেষ্টা পর্যন্ত অজিত ডোভালের যাত্রাপথ ছিল অনন্য।
অজিত ডোভাল মুসলিম সেজে দীর্ঘ ৭ বছর পাকিস্তানে ছিলেন। অজিত ডোভাল পাকিস্তানে থাকা অবস্থায় কেউ তার টিকি পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি। পাকিস্তানের পারমাণবিক গবেষণার গোপন তথ্য সংগ্রহের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ডোভাল। জীবনের ৭৮ বছর পার করা অজিত ডোভালের গুপ্তচরবৃত্তির দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। পাঞ্জাবি – শিখ দের বিদ্রোহ দমনেও ছিল তার অনন্য ভূমিকা। ১৯৬৬ থেকে মিজোরামে শুরু হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। যার নেতৃত্বে ছিল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট। সেখানে গা ঢাকা দিয়ে কাজ শুরু করেন অজিত ডোভাল। আন্দোলনের ৫ – ৬ জন নেতার বিশ্বাস অর্জন করেন ভারতের শক্তিশালী নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তাদের সেই আন্দোলন থেকে আলাদা করে দেন। ফলে সেই আন্দোলন মুখ থুবড়ে পরে যায়।
ঠিক এই গল্পের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের জন্য সঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে অজিত ডোভাল। দিল্লির ঢাকা বিরোধীর নেতৃত্বেও রয়েছেন ডোভাল। ডোভালের মুখে বাংলাদেশের নাম। জাতীয় একতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তিতায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলির সরকার পতনের মূল কারণ নিয়ে কথা বলেন অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, দুর্বল প্রশাসনের কারণেই এই সকল সরকারের পতন হয়েছে। জাতি গঠন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লক্ষ্য অর্জন এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা পূরণে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অজিত ডোভাল বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলংকা এবং অন্যান্য দেশে অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একটি জাতির আসল শক্তি তার শাসন ব্যবস্থার মধ্যেই নিহিত থাকে। যখন কোনও পরিবর্তন আসে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লক্ষ্য পরিষ্কার রাখা এবং যে কোনও ঝড় – ঝাপ্টার মাঝেও যেন চোখ বন্ধ না হয়, ভয় বা বিভ্রান্তিতে যেন পথ না হারায়।
গত বছর গণ আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আকস্মিকভাবে ক্ষমতা হারানোর পরই ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেই মুহূর্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী করা হবে এমত অবস্থায় নয়া দিল্লি ডাক দেয় এই অজিত ডোভালকে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কী এবার ডোভালের চোখ বাংলাদেশের দিকে ? তবে কী এবার ঢাকায় শক্তিশালী শাসন ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠলেন ভারতের শক্তিশালী নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ?












Discussion about this post