জুলাই সনদের সাংবিধানিক আদেশ নিয়ে চলছে নানা তর্ক – বিতর্ক। পাশাপাশি এনসিপি ও জামাতের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জুলাই সনদের এই সাংবিধানিক আদেশ অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ডক্টর মহম্মদ ইউনুসকে জারি করতে হবে, রাষ্ট্রপতিকে এই আদেশ জারি করতে দেওয়া হবে না। এমত অবস্থায় সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে এটি সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। সংবিধানের আলোকে শপথ নেওয়া সরকার কোনোভাবেই সংবিধান বিরোধী কোনো কাজ করতে পারবেন না। এটি কোনোদিন গ্রহণ যোগ্য নয়।
আমরা লক্ষ্য করেছি বহুদিন ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দেওয়ার নানান পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না যাওয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। একমাত্র রাষ্ট্রপতি নিজে চাইলে সরে যেতে পারবেন। যেখানে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হন রাষ্ট্রপতি ও তাকে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার কথা দেশের সরকারের, এক্ষেত্রে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশে বারবার রাষ্ট্রপতিকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিদেশী দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে বারবার রাষ্ট্রপতিকে অমান্য করা, অগ্রাহ্য করা ও অসস্মান করা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে গৃহবন্দী করেও রাখা হয়েছে। সর্বদা নজরদাড়ি চালানো হচ্ছে তার ওপর।
এঅবস্থায় আবারও আলোচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রাষ্ট্রপতিকে দেখা গেছে বঙ্গভবন থেকে বের হতে। বেশ কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা গেছিল। কিন্তু তারপর আর দেখা যায়নি চুপ্পুকে। রাষ্ট্রপতি ৪ দিনের জন্য বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৬ ই নভেম্বর সরকারি সফরে নিজের বাড়ি পাবনা যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি প্রথমে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে পাবনা যাবেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অফ অনর গ্রহণ করবেন এবং জেলা সার্কিট হাউসেই তিনি রাত্রিযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শুক্রবার ৭ ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি আরিফপুরে তার পিতা ও মাতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তারপর তিনি সাক্ষাৎ করবেন তার আত্মীয় – পরিজনদের সাথে। সফরের তৃতীয় দিন অর্থাৎ শনিবার ৮ ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জেলা সার্কিট হাউসে নিকট আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং পুনরায় সেইখানেই তিনি রাত্রিযাপন করবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ রবিবার ৯ ই নভেম্বর সকালে জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অফ অনর গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় রওনা দেবেন।
রাষ্ট্রপতির সফরে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জেলা প্রশাসককে সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার সম্বনয় ও প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করার জন্যও বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই সফরে দানা বেঁধেছে একাধিক প্রশ্নের। প্রশ্ন উঠছে, নিজের বাড়ি পাবনায় তিনি সফর করতেই পারেন কিন্তু হটাৎ কেন রাষ্ট্রপতির ৪ দিনের সফর ? তাহলে কী রাষ্ট্রপতি হিসেবে এইটাই তার শেষ নিজের এলাকা সফর ? তার ৪ দিনের এই সফরে কী কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে ?












Discussion about this post