ভারত কোথা থেকে কি কলকাঠি নাড়ল যে যারা ৫ বছর ক্ষমতায় থাকার কথা ভাবছিল তারা এখন হঠাৎ করে ভোট করাতে মরিয়া। এবং ইউনূস সাহেব তার প্রিয় ছাত্রদল বা নেতার হুমকিকে পরোয়া না করেই ফেব্রুয়ারীতেই ভোট করাতে বদ্ধপরিকর।তার উপদেষ্টারা তাই কঠোর ভাষায় এনসিপি এবং জামাতকে জানিয়েও দিয়েছে যে তারা কারো কথা শুনবে না, কে কি বলল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, প্রধান উপদেষ্টার কথা মত ভোট হবে ।। এবার আসি পুরো ঘটনাটিতে, যে কোথা থেকে কিভাবে ভারত খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ কেন ভারতের পছন্দ তা রাশিয়া এবং চীনকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে ভারত। ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য আমাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকবে, এবং ভূ-রাজনৈতক বিভেদও থাকবে। কিন্তু এশিয়া মহাদেশে কোন ভাবেই আমেরিকাকে দাদাগিরি করতে দেওয়া যাবে না। ভারত এবং চীন দুই দেশই বুঝতে পারছে কেন আমেরিকা বাংলাদেশ এবং মায়ানমারে তাদের ঘাঁটি তৈরী করতে চায়। কারণ বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে যে দুটি দেশ, তারা হল ভারত আর চীন। আর আমেরিকা বহু আগের থেকেই চাইছিল এই দুটি দেশকে কমজোর করতে। হয়তো বাংলাদেশে হাসিনার পতন হত না, যদি ২০২৪ শে ভারতে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে যেত। ডিপ স্ট্রেট থেকে বহু চেষ্টা করা হয়েছিল ভারতে রাজনৈতিক পালা বদল ঘটানোর, কিন্তু ভারতের গনতন্ত্র এতটাই মজবুত যে বাইরের দেশের প্রভাব এই গণতন্ত্রকে নষ্ট করতে পারেনি। তাই আমেরিকার কাছে বিকল্প পথ হল বাংলাদেশে পালাবদল। এবং নিজেদের তাবেদার কাউকে সরকারে বসিয়ে বে অফ বেঙ্গলকে কব্জা করা। কারণ এশিয়ামহাদেশে এন্ট্রি নিতে হলে এই জায়গাটিই প্রধান গেট। আমেরিকার ইচ্ছা শুধু বাংলাদেশে তাবেদার সরকারই নয়, মায়ানমারেও তাদের একটি শক্ত অবস্থানের প্রয়োজন। তাই আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সৈন্য এবং অস্ত্র দিয়ে করিডর তৈরী করাতে রাজি করা। আমেরিকা সু-কৌশলে ভারতের অজ্ঞাতে বাংলাদেশে পালাবদল তো ঘটিয়ে দিল। কিন্তু যখন দেখল ভারত রাশিয়া এবং চীন এক হয়ে তাদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। তখন ইউনূস সাহেব বুঝেছেন তার দ্রুত সরে যাওয়া উচিৎ। কারণ তিনি সরকারী এবং বেসরকারী ভাবে যত গুলি জরিপ করিয়েছেন সব গুলির ফল, তাকে হতাশ করেছে। তার পছন্দের সব মৌলবাদী দল গুলিতো বটেই সঙ্গে বিএনপিকে নিয়েও মোট ভোট ৩২ শতাংশ। আর বাকি ৬৮ শতাংশ ভোট হল আওয়ামীলীগ বা আওয়ামীলীগ সহযোগী দলগুলির ঝুলিতে।অর্থাৎ ইউনূস বুঝে গেছেন আজ হোক বা কাল, বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ আসবেই। আর আওয়ামীলীগ এলে এই টোকাই বাহীনী, যতগুলি দেশদ্রোহীতার কাজ করেছে, যেমন জাতীয় সম্পতিতে আগুন এবং হামলা, হাজার হাজার পুলিশ হত্যা, এবং সর্বোপরি সংবিধানকে অমান্য করা। এবং প্রধান বিচারপতি সেনাহেফাজতে থাকা অবস্থায় তার সই জাল করে, তদারকী সরকার গঠন করা।এগুলির কঠিন বিচার হবে, আর সেই বিচার করবে আওায়ামীলীগ। ইউনূস সাহেব এটা বুঝে পাচ্ছেন না যে, তার প্রিয় ছাত্ররা এত মব করছে যখন তখন যেখানে সেখানে, সে স্কুল হোক বা আদালত, মানে নুরুল হক নুরের মত নেতারা, যারা মব তৈরীতে ওস্তাদ, সেই সব নেতাদের কাছে জনসমর্থন মাত্র ২শতাংশ। সরকার গঠনের প্রথম দিকে তিনি ভেবছিলেন আমেরিকার সমর্থনে তিনি দেশের হাল ফেরাতে পারবেন, ফলে মানুষ তাদের অন্যায়গুলিকে দেখতে পাবে না। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো, গত ১৩ মাসে দেশ পিছন দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। যে দেশটি দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল সারা পৃথিবীতে সেই দেশ এখন মন্থর গতির দিকে ৫ নম্বরে। মানে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছে। হাসিনার দূর্নীতির কথা বলতে গিয়ে এমন প্রচারও করা হয়েছে যে, কোন একটি প্রকল্পে নাকি হাসিনা ২৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু পরে জানা গেছে ঐ প্রকল্পটিই মাত্র ২০ কোটি টাকার। মানে বাংলাদেশে ২৬কোটি ভারতীয়র চাকরি করা মিথ্যা প্রচারের মত। দেশবাসী হাসিনার বিরুদ্ধে সরকারের এই মিথ্যে অপপ্রচারগুলি ধরে ফেলেছে।তারা বুঝে গেছে এই সরকার কি চাইছে, তাই ইউনূস দেখছেন ভোট করিয়ে দ্রুত বিদায় না নিলে সামনে সমূহ বিপদ। জনগনের মারে না থাকবে মাথার চুল আর না থাকবে গায়ের পোশাক। কিন্তু এই ভোটে আওয়ামীলীগ কে আটকাতে না পারলে কি হবে এই ইউনূস বাহীনীর।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post