আওয়ামি লিগকে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে বহু ভোটার নির্বাচন বয়কট করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তারপরেই বাংলাদেশের শোরগোল পড়ে যায়,আর এর জবাবে এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ইউনূসের প্রেস সচিবের অভিযোগ, একবিংশ শতাব্দীতে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি আর কেউ নেই।এদিকে নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসিনার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে শফিকুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতিসংঘের রিপোর্টে স্পষ্ট। এ ছাড়া আরো দুটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে, তিনি খুন করার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর নির্বাচন নিয়ে হাসিনা যে দাবি করেছেন, আমাদের মনে হয় না আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশ না নিতে দিলে কোনও বড় সমস্যা হবে। তবে মুখে যাই বলুক না কেন হাসিনার মুখ খোলায় ইউনুস প্রশাসন যে চাপে পড়েছে তা তাদের কর্মকান্ড দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাইরে তারা হম্বিতম্বি করে জানাচ্ছে দু-একটা ঝটিকা মিছিল… সেই অনুযায়ী কেউ কেউ হয়তো-বা দু-একটা ডলার পান, এই তো।’শফিকুল আলম আবার এই বিষয়ে বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য শুধু শারীরিক নয়, সাইবার হামলাও হতে পারে। তবে কি ইউনুস প্রকৃতই হাসিনা আতঙ্কে ভুগছেন তাই তিনি প্রেষ সচিবকে দিয়ে তার মনের কথা বলাচ্ছেন? স্বৈরাচারী এবং তাদের সঙ্গীরা দেশে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দিতে চায় না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন বিভিন্নভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশের ভেতর থেকে, বাইরে থেকে খুবই পরিকল্পিতভাবে নানা রকম অপপ্রচার চালানো হবে। এআই ছবি-ভিডিও তৈরি করে ছেড়ে দেওয়া হবে। এটা সামাল দিতেই হবে।’তবে যে ইউনূস ও তার উপদেষ্টা মহল হাসিনা নিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অন্যদিকে সম্প্রতি রয়টার্স, ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বললেন, ‘দিল্লিতে আমি স্বাধীন ভাবে আছি। তবে নিশ্চিত ভাবে নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। তবে আওয়ামি লিগকে বাদ দিয়ে যদি কোনও নির্বাচন হয় এবং সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেই অসাংবিধানিক সরকারের সময়ে বাংলাদেশে ফিরব না। আওয়ামী লিগের উপরে নিষেধাজ্ঞা শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি আত্ম-পরাজয়ও বটে।’ হাসিনা বলেন, ‘আগামী সরকারের নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লিগকে সমর্থন করে, জনগণের মন থেকে হাসিনা ও তার দলকে অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে সরানো যাবে না তা তিনি স্পষ্টই বলে দিয়েছেন কাজেই হাসিনা না ফিরলে তারা ভোট দেবেন না তা হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক সিস্টেম চালানোর জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ দিতে পারেন না। আমরা আওয়ামী লিগের ভোটারদের অন্য কোনও দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনও আশা রাখছি যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে।’বাংলাদেশে লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুমখুন নিয়ে বারংবার ইউনূস সরকারের সমালোচনা করেছেন হাসিনা। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর জুলাই থেকে অগাস্টের মধ্যে বাংলাদেশে ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যা সবটাই ইউনূস রাজত্বে ঘটেছে।নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগও রয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহলে কি দিল্লিতেই পাকাপাকি থাকার কথা ভাবছেন হাসিনা? তিনি বলেন, “বৈধ সরকার গঠিত হলে, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা হলে এবং আইনের শাসন ফিরলে অবশ্যই বাড়ি ফিরতে আগ্রহী আমি।” তবে ১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে বাবা অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর ইতিহাস মনে রেখে তিনি সর্বদা সতর্ক থাকেন। তাঁর বক্তব্য, “দিল্লিতে যথেষ্ট স্বাধীনতাই রয়েছে আমরা স্বাধীন ভাবে বসবাস করছি”। কাজেই দিল্লি আমাদের বন্ধু কিন্তু ইউনুস পাকিস্তানের সাথে চক্রান্ত করে ভারতের সাথে যে দূরত্ব তৈরি করেছে তাও তিনি মনে করিয়ে দিতে ছাড়েননি। তাঁর অনুগামীরা মনে করছেন, আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁকে নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ হাসিনার দেশে ফেরা একরকম অনিশ্চিতই করে তুলেছে।রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বাড়িতে ফিরতে চাই। তবে তখনই, যখন সেখানে একটি বৈধ সরকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।” ঢাকা ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি ছাত্র আন্দোলনকে দায়ী করেন, যা কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভে সহিংস হয়ে উঠেছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও ছাড়েনি। সেই রাতেই তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা দিল্লির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা হলে কোটি কোটি ভোটার নির্বাচন বয়কট করবে। ১২ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের এই দেশে বিএনপি নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হলেও, আওয়ামী লীগ বাইরে থাকলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। হাসিনা মনে করেন না যে দলটি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তবে তাঁর ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে তিনি দলের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তবে যে হাসিনা আওয়ামী লীগের দেশে ফেরা নিয়ে চরম আশাবাদী তা তাঁর দেওয়া সাক্ষাৎকারেই অক্ষরে অক্ষরে ফুটে উঠেছে।











Discussion about this post