বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটে বড় ধরনের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু এই জোটে এখনও পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়নি। কারণ, বৃহস্পতিবার যে সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে, সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির এবং চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের জন্য একটি চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তাঁর দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। ফলে আপাত দৃষ্টিতে ১১ দলের বদলে কার্যত ১০ দলকে সমঝোতায় দেখা যাচ্ছে। তবে জামাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের জন্য ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কার্যত বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। তাঁরা আর জোটে যেতে রাজি নয়, উল্টে জামায়াতের জোট থেকে ইসলামি দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে আহ্বান জানালো চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এখনও পর্যন্ত জামায়তের আসন বণ্টনের যে বিস্তারিত ছবি সামনে এসেছে তা হল, জামায়াতে ইসলামী লড়বে ১৭৯টি আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতে মাত্র ৩০টি আসন। অন্যদিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসন, খেলাফত মজলিস ১০টি আসন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি ৭টি আসন, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি ৩টি আসন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণযভাবে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, “এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং ইসলামী দলগুলোর অস্তিত্ব, মূল্যবোধ ও দেশের ইসলামী চরিত্র রক্ষার লড়াই। জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।
জামায়তের নায়েবে আমির যতই এই জোটকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করুক না কেন, সেই ঐক্যে যে ফাটল ধরে গিয়েছে তা এখন স্পষ্ট। প্রথমেই উল্লেথ করা যেতে পারে জাতীয় নাগরিক পার্টির কথা। তাঁরা মাত্র ৩০টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলো। যদিও এনসিপির জন্য ৩০টি আসনের ঘোষণা দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ২৭টি আসনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। আবার, অন্যদিকে শুরু থেকেই জামাতের জোটে ছিল ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেষ সময় পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে ওই জোটে রাখার জোর চেষ্টাও ছিল। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন জামায়াত জোট ছেড়ে ভোটে একলা চলার নীতি ঘোষণা করল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জামাতের জোটের পাশাপাশি ইসলামি জোটেও চিঁড় ধরলো। যা আগামীদিনে বড় ধাক্কার কারণ হতে পারে জামাতের পক্ষে। যা বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল, সেই জামাতই এখন ভোটের আগে কার্যত কোনঠাসা। এর ফলে বাংলাদেশে ভোটের হিসাবও পাল্টে যাবে।












Discussion about this post