স্বাধীনতাবিরোধী ও সরকারের সৃষ্ট দুটি রাজনৈতিক দল শুধু পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা নতুন নতুন তত্ত্ব আনছে। পিআর নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তাই অনেকেই ওই সময়ে নির্বাচন চান না। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের সৃষ্ট দল আখ্যা দিয়ে হাফিজ বলেন, ‘যাদের নিবন্ধনই হয়নি তারা বলছে নির্বাচন হতে দেয়া যাবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির হাফিজ আরও বলেন, ‘তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না, বরং একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চায়।’ হাফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, দেশের মানুষের জন্য যাদের কোনো ত্যাগ নেই, তারাই নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে। স্বাধীনতা বিরোধী এবং সরকার সৃষ্ট দুটি রাজনৈতিক দলই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।
সরকার বিরোধী দল, যারা স্বাধীনতা-বিরোধী হিসেবে পরিচিত, তারা দীর্ঘদিন ধরে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (PR) ভিত্তিতে নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে আসছে। একই সাথে, সরকার সমর্থিত কিছু দলও এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করার জন্য সমর্থন জানাচ্ছে। এই দুটি দল, যারা মূলত ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুর প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের এই বিষয়ে ঐকমত্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত করে যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
মূলত, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে আসন সংখ্যা নির্ধারিত হবে। এর ফলে, ছোট দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে, যা বর্তমানে প্রচলিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিক পদ্ধতিতে সম্ভব হয় না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘অদ্ভুত এক ঘটনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটতে যাচ্ছে। সেটি হলো, সারা পৃথিবীতে সংবিধান সংশোধন করেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাংলাদেশে তা করছেন একদল অনির্বাচিত লোক।’
মেজর হাফিজ বলেন, ‘যারা কেউ আমেরিকা থেকে, কেউ লন্ডন থেকে কিংবা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। যাদের গত ১৭ বছরের সংগ্রামে কোনো অংশগ্রহণ নেই, জুলাই অভ্যুত্থানে কোনো অংশগ্রহণ নেই, তারা বাংলাদেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিতে চান।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন আমাদের নেতা মেজর জিয়াউর রহমান।
রাজনৈতিক দলগুলো যখন পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে, জনগণকে আশার বাণী শোনানোর জন্য কাউকে যখন খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জনতার কণ্ঠস্বর হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।’
তারুণ্যের শক্তি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববাসী মাথাপিছু আয় দেখিয়ে আমাদের দরিদ্র দেশের কাতারে ফেলতে চায়। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার বহু পরাশক্তি, যাদের রিজার্ভে বহু ডলার থাকে, বাংলাদেশ তাদের চেয়ে অনেক ধনী। কারণ, বাংলাদেশে আবু সাঈদের মতো সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নিরস্ত্র হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে পারে এরকম উদাহরণ পৃথিবীতে বেশি নেই। বিশেষত এসব পরাশক্তি যারা বহু গর্বে গর্বিত, তাদের মধ্যে তো মোটেও নেই। সুতরাং আমাদেরও গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে।’












Discussion about this post